অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীসহ সারা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ডিম, ভোজ্যতেল, ডাল, সবজি, মাছ ও মাংসসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজারে কোনো পণ্যে স্বস্তি না থাকায় কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় এখন অনেকের ভরসা সরকারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রম।
তবে চাহিদার তুলনায় পণ্যের সরবরাহ কম হওয়ায় প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক মানুষ খালি হাতে ফিরছেন। রাজধানীর নিউমার্কেট, আসাদগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বিক্রি শুরু হওয়ার আগেই শত শত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, দিনমজুর, রিকশাচালক থেকে শুরু করে চাকরিজীবীরাও কম দামে পণ্য কিনতে ভিড় করছেন ট্রাকসেলে।
নিউমার্কেট এলাকায় টানা দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গৃহিণী শান্তা আক্তার বলেন, “আগে বাজার থেকে যা কিনতাম, এখন তার অর্ধেকও কিনতে পারি না। সব কিছুর দাম অনেক বেশি। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তাই কম দামে তেল ও ডাল কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছি।”
রিকশাচালক মো. বেলাল জানান, বাজারে দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে প্রায় ৪০০ টাকা এবং দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা লাগে। অথচ টিসিবি থেকে একই পরিমাণ তেল ২৬০ টাকা এবং ডাল ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, “টিসিবি না থাকলে পরিবার নিয়ে চলা আরও কঠিন হয়ে যেত।”
টিসিবির ডিলারদের দাবি, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ পণ্য কিনতে এলেও সীমিত সরবরাহের কারণে সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিউমার্কেট এলাকার এক বিক্রেতা জানান, দুপুরের মধ্যেই সব পণ্য শেষ হয়ে যায়। প্রায় ৪০০ জনের বেশি মানুষকে পণ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১১ মে থেকে টিসিবির এই সাশ্রয়ী মূল্যের ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে ১০ দিন। একজন ক্রেতা এক কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল ও দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন। এসব পণ্যের মোট মূল্য রাখা হয়েছে ৪৮০ টাকা, যা বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ২৫০ টাকা কম।
টিসিবি সূত্র জানিয়েছে, বাজার থেকে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে বর্তমানে প্রায় ৭৩০ টাকা খরচ হচ্ছে। এ কারণে প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ঠেলাঠেলি ও হুড়োহুড়ির ঘটনাও ঘটছে।
এদিকে বাজারে ডিম, মুরগি ও সবজির দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে ফার্মের লাল ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়ার দোকানে এক হালি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেশির ভাগ সবজির দামও ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি বাড়ানো, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকট আরও তীব্র হতে পারে।


