বুধবার, মে ২০, ২০২৬

কবিতা লিখবো না, ইতিহাস লিখব, তিক্ত ইতিহাস

পাঠক প্রিয়

জ্বালানি খাত ‘দুষ্টচক্রে বন্দি’, ভাঙতে হবে অলিগার্কিক কাঠামো: তিতুমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত একটি ‘দুষ্টচক্রে’ বন্দি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা...

এআই ক্যামেরায় বদলাচ্ছে রাজধানীর ট্রাফিক চিত্র, গভীর রাতেও মানা হচ্ছে সিগন্যাল

অনলাইন ডেস্ক ঢাকার সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর...

কুমিল্লায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে জনতার ঢল, পথে পথে উৎসবমুখর পরিবেশ

কুমিল্লা প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো কুমিল্লা পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমনকে কেন্দ্র...

তিস্তার স্রোতে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ লালমনিরহাট

লালমনিরহাট প্রতিনিধি লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নে তিস্তা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতের টানে নিখোঁজ হওয়া দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু...

ক্যানসারের থাবায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, চিকিৎসা ব্যয়ে নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার

বিশেষ প্রতিবেদন দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। স্তন, ফুসফুস, জরায়ুমুখ, লিভার, মুখগহ্বর, খাদ্যনালি, পাকস্থলী ও রক্তের ক্যানসারসহ...
ফেরদৌস আহমেদ
আমি আর কবিতা লিখবো না।
আমি এখন ইতিহাস লিখব, একটা যুগের ইতিহাস ,একটা জাতির ইতিহাস।
ইতিহাসের প্রথম পাতায় আমি কিছুই না লিখে ,সেখানে এক জোড়া জুতো এনে রেখে দেব।
সেই জুতো ,
যে গুলো মানুষ চুরি হয়ে যাওয়া ভয়ে উপাসনা করার সময় উপাসনালয়ের ভিতরে নিয়ে রাখতে হয়।
পরবর্তী প্রজন্ম এগুলো দেখেই বুঝতে পারবে আমাদের চরিত্র কেমন ছিল।
আমি গ্রামের বাজারে গিয়ে দশজন গিরস্তের কাছ থেকে দশ ফোঁটা দুধ কিনে এনে রেখে দেব এখানে।
আমি জানি ,রহস্য উদঘাটনের জন্য মানুষ এগুলোকে রান্না করা শুরু করবে।
অনেকক্ষণ রান্না করার পরও যখন এখান থেকে মালাই হবে না, দই মাখন হবে না, মানুষ তখন বুঝতে পারবে আমাদের বেচাকেনার মান কেমন ছিল, ব্যবসায়ীক নৈতিকতা কেমন ছিল।
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সুন্দর ও চাকচিক্যময় কিছু উপাসনালয়কে আমি রেখে দেব এর ভিতর।
ইতিহাস পাঠকরা যখন দেখবে উপাসনালয় গুলো সোনা রুপা মোড়ানো, আর উপাসনালয়ের সামনে বসে থাকা ভিক্ষুকদের কারো মুখে খাবার নেই ,কারো গায়ে পোশাক নেই।
পাটকরা তখন আমাদের ধর্মীয় জ্ঞান এবং গোড়ামী দুটো সম্বন্ধেই পরিষ্কার ধারণা লাভ করতে পারবে।
আমি টাটকা নতুন কয়েকটা ১০০ টাকার নোট এনে ইতিহাস বইয়ের পাতার সাথে গেঁথে রেখে দেব।
এটা দেখে পাঠকরা প্রথমে কিছু বুঝতে পারবে না, ভালো করে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখার পর তারা লক্ষ্য করবে যে ,প্রতিটি টাকার এক কোনে পোড়া। তখন তারা বুঝতে পারবে এগুলো দিয়ে যুবকরা নেশা করত।
আমি হাসপাতাল থেকে ইচ্ছে করে ফেলে দেওয়া কিছু ভ্রুন, খাল, বিল, জঙ্গল থেকে ফেলে দেওয়া নবজাতকের কিছু রক্ত মাংস হাড় এনে রেখে দেব এখানে।
বইয়ের পাতা খুলতেই ওরা কান্না শুরু করে দেবে, ওরা চিৎকার করে বলবে আমরা নির্দোষ ছিলাম , আমাদেরকে অন্যায় ভাবে হত্যা করেছিল ওরা।
ওদের কথা শুনে জ্ঞানী মূর্খ সবাই আমাদের বর্বরতা সম্বন্ধে অনুমান করতে পারবে।
বন্দিসহ আস্ত একটা জেলখানা এনে আমি রেখে দেবো এর ভিতর।
মানুষেরা যখন দেখবে এর ভিতর কোন অপরাধী নেই,আছে শুধু রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার এবং ক্ষমতাসীনদের চক্রান্তে স্বীকার কিছু নিরপরাধ মানুষ।
তখন বুঝতে পারবে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থা এবং বিচার ব্যবস্থা কেমন ছিল।
কোন এক সুন্দরী বধুর সুন্দর হাতে লেখা একটা প্রেমের চিঠি এনে রেখে দেবো এখানে।
চিঠির ভাষায় মানুষ আবেগ আপ্লুত হয়ে যাবে, তবে চিঠির ঠিকানা দেখার পর সবাই হতভম্ব হয়ে যাবে।
মানুষ যখন দেখবে এ চিঠি বধু তার স্বামীকে লিখেনি ,লিখেছে তার গোপন প্রেমিককে, তখন তারা আমাদের পারিবারিক অবস্থার কথা ভালোভাবে বুঝতে পারবে।
একজন পিতা আরেকজন পুত্রকে এনে রেখে দেবো এখানে আমি।
মানুষ যখন দেখবে বৃদ্ধ পিতা বৃদ্ধাশ্রমে পড়ে কাঁদছে, কিন্তু তার সম্পদশালী ছেলে তার কোন খোঁজ খবর নিচ্ছে না, তখন তারা আমাদের স্নেহপরায়ণতা ও দায়িত্বশীলতা সম্বন্ধে জানতে পারবে।
আমি বিশ্বকাপসহ বড় বড় কিছু প্রতিযোগিতার পুরস্কারের ট্রফি থেকে কিছু সোনা রুপা এনে রেখে দেবো এখানে।
ইতিহাস পাঠকরা যখন দেখবে দুনিয়া জুড়ে অসংখ্য মানুষ খাদ্য পানীয় এবং চিকিৎসার অভাবে ভুগছে, কিন্তু মানুষেরা এদিকে দৃষ্টিপাত না করে সবাই প্রতিযোগিতার ট্রফি নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে, পাঠকরা তখন আমাদের বুদ্ধি বিবেকের জীর্ণতা ও রুগ্নতা সম্বন্ধে ধারণা করতে পারবে।
শিক্ষাগুরুর যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করা কোন এক কিশোরীর ফাঁসির দড়িটা এনে রেখে দেবো আমি। সাথে তার লেখা চিরকুটটিও থাকবে।
ইতিহাস পাঠকরা চিরকুটটি পড়ে যা বোঝার তাই বুঝবে।
রাস্তার ধারে পড়ে থাকা মা হয়ে যাওয়া পাগলিটাকেও আনবো আমি।
ইতিহাস পাঠক পাগলীর পেটে থাকা বাচ্চার বাবার সন্ধান না পেয়ে, বুঝতে পারবে সে যুগে নারীর ইজ্জত কতটা নিরাপদ ছিল।
সর্বশেষ পাতায় আমি আমার কলমটা রেখে দেবো।
মানুষেরা কলমটি হাতে নেওয়ার পর যখন এটার মধ্য থেকে কালি না পড়ে চোখের পানি পড়বে ,রক্ত পড়বে,তখন তারা বুঝতে পারবে সে যুগে সত্য কথা বলার কলম এবং কবি কোনটাই নিরাপদ ছিল না।
তিক্ত ইতিহাস

সর্বশেষ সংবাদ

জ্বালানি খাত ‘দুষ্টচক্রে বন্দি’, ভাঙতে হবে অলিগার্কিক কাঠামো: তিতুমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত একটি ‘দুষ্টচক্রে’ বন্দি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা...

নাহিদ রানার হুঙ্কার: ‘আমাকে বাউন্সার মারলে ছেড়ে কথা বলবো না’

অনলাইন ডেস্ক বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ পেসার নাহিদ রানা সম্প্রতি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। গতি, বাউন্সার এবং আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে জাতীয় দলের অন্যতম ভরসার নাম হয়ে...

জন আব্রাহামই কি হচ্ছেন নতুন জেমস বন্ড?

অনলাইন ডেস্ক বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এখন—কে হচ্ছেন পরবর্তী জেমস বন্ড! সম্প্রতি Amazon MGM Studios আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, জনপ্রিয় ‘০০৭’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তির জন্য অডিশন প্রক্রিয়া...

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মাউন্ট মাকালু জয় করে দেশে ফিরলেন বাবর আলী

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ Mount Makalu জয় করে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী Babar Ali। দুঃসাহসিক এই অভিযানের অভিজ্ঞতা জানাতে রোববার চট্টগ্রাম প্রেস...

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ভেলায়াতির সতর্কবার্তা, ‘ইসরায়েলের ফাঁদে পা দিচ্ছে ওয়াশিংটন’

অনলাইন ডেস্ক ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর ভেলায়াতি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলের পাতা ‘কৌশলগত ফাঁদে’ পা দিচ্ছে ওয়াশিংটন। তিনি দাবি করেন, ইরানের...

জনপ্রিয় সংবাদ