অনলাইন ডেস্ক

গরমের মৌসুম শুরু হতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেতে থাকে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভেতর ও বাইরে মশার উৎপাত আরও তীব্র হয়। শুধু বিরক্তিকর পরিস্থিতিই নয়, এ সময় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
সাধারণত মশা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক স্প্রে ও কয়েল ব্যবহার করা হলেও অনেকেই স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও পরিবেশগত কারণে এসব পদ্ধতি এড়িয়ে চলেন। তাদের জন্য কিছু নিরাপদ ও ঘরোয়া উপায়ে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পদ্ধতি নিচে তুলে ধরা হলো।
স্থির পানি অপসারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা মূলত জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে এবং বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আশপাশে টব, বালতি, কুলার বা ড্রেনেজ লাইনে পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে মশার লার্ভা জন্মানোর সুযোগ কমে যায়।
রসুনভিত্তিক প্রাকৃতিক স্প্রে
রসুনে থাকা প্রাকৃতিক উপাদানের তীব্র গন্ধ মশা সহ্য করতে পারে না। পানিতে রসুন ফুটিয়ে ঠান্ডা করে স্প্রে হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটি জানালা, বারান্দা, গাছপালা ও ঘরের বাইরের অংশে ব্যবহার করলে মশার উপস্থিতি কমে।
এসেনশিয়াল অয়েলের ব্যবহার
লেমনগ্রাস, ইউক্যালিপটাস ও টি-ট্রি অয়েল মশা প্রতিরোধে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত। পানির সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে তৈরি করে ঘরে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া তুলায় ভিজিয়ে দরজা ও জানালার পাশে রাখলেও উপকার পাওয়া যায়।
নিমপাতার ধোঁয়া
ঐতিহ্যগতভাবে শুকনো নিমপাতা পোড়ানোকে মশা তাড়ানোর একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর ধোঁয়া মশার জন্য অস্বস্তিকর হওয়ায় বারান্দা বা খোলা স্থানে এটি ব্যবহার করা হয়।
জানালা ও দরজায় জাল ব্যবহার
ঘরের ভেতরে মশার প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজায় মিহি জালের ব্যবহার একটি সহজ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিবেচিত। এতে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং মশা ঢুকতে পারে না।
মশা প্রতিরোধী গাছ রোপণ
সিট্রোনেলা, তুলসী, ল্যাভেন্ডার ও পুদিনার মতো গাছের গন্ধ মশা দূরে রাখতে সহায়তা করে। এসব গাছ বারান্দা, ছাদ বা জানালার পাশে রাখলে প্রাকৃতিকভাবে মশা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ
মশা নিয়ন্ত্রণে ঘরের ভেতর ও আশপাশের পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবর্জনা, ঝোপঝাড় বা অপরিচ্ছন্ন স্থান মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাসায়নিক ব্যবহারের পাশাপাশি এসব প্রাকৃতিক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা একসঙ্গে গ্রহণ করলে মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।


