অনলাইন ডেস্ক

কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের বিমান বাহিনীর দুঃসাহসিক হামলার বিস্তারিত বর্ণনা প্রকাশ করেছেন অভিযানে অংশ নেওয়া পাইলটরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ মার্চ পরিচালিত এই অভিযানে এফ-৫ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে শত্রুপক্ষের রাডার ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে বোমা হামলা চালানো হয়।
বুধবার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অভিযানের কমান্ডার এবং দুইজন ক্রু সদস্য পুরো মিশনের বিবরণ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত আগ্রাসনের জবাব হিসেবে কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক এই হামলা চালানো হয়েছিল।
অভিযানের কমান্ডার জানান, মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর নজরদারি ব্যবস্থা এড়াতে যুদ্ধবিমানগুলোকে অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড্ডয়ন করতে হয়। সাধারণত প্রশিক্ষণে ৫০০ ফুটের নিচে না নামার নির্দেশনা থাকলেও এই মিশনে তারা মাটি থেকে প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতায় উড়ে যান। এমনকি কিছু স্থানে বিদ্যুতের তারের নিচ দিয়েও বিমান চালানোর দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো অভিযান পরিচালিত হয় সম্পূর্ণ রেডিও নীরবতা বজায় রেখে। শত্রুপক্ষের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, অ্যাওয়াক্স নজরদারি বিমান এবং প্রস্তুত থাকা যুদ্ধবিমানগুলোর নজর এড়াতে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল।
কমান্ডার আরও বলেন, কুয়েতের আকাশসীমায় প্রবেশের পর যুদ্ধবিমানগুলোর গতি বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং লক্ষ্যবস্তুর ওপর পৌঁছে ফ্রি-ফল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। হামলার ফলে ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা, সামরিক সরঞ্জাম ও হেলিকপ্টার ধ্বংস হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন, হামলার সময় সৃষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে শত্রুপক্ষের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়ে যায়। তার মতে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ভুলবশত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে নিজেদের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল। তবে এ বিষয়ে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্রের তাৎক্ষণিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযানে অংশ নেওয়া আরেক পাইলট জানান, হামলা শেষে শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে যুদ্ধবিমানগুলো নিরাপদে ইরানের আকাশসীমায় ফিরে আসে এবং নির্ধারিত ঘাঁটিতে অবতরণ করে।
পাইলটদের ভাষ্যমতে, মিশনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনে জীবন বিসর্জন দিয়েও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্দেশনা ছিল। দেশের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার স্বার্থেই তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে দাবি করেন তারা।
উল্লেখ্য, হামলার ঘটনা ও এর ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবিগুলোর স্বাধীন আন্তর্জাতিক যাচাই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।


