
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে মার্কিন সেনা হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘হাজার হাজার’ মার্কিন সেনা হত্যার অভিযোগ তোলেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাইন্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি জোলান কান্নো-ইয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দক্ষিণ ইরানের মিনাব এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে কথিত মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “কেউ ওই কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করেনি। কিন্তু আপনারা তাদের (ইরান) ব্যাপারে কী বলবেন? তারা যে গাড়ি বোমা মেরে আমাদের হাজার হাজার সেনাকে উড়িয়ে দিল, সেটার কী হবে? ইরান যে হাজার হাজার মানুষকে মারল, তা নিয়ে তো কথা বলছেন না!”
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি মার্কিন বাহিনীর প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ করেছেন, নাকি এটি ছিল রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
একই সংবাদ সম্মেলনে মিনাবের একটি বিদ্যালয়ে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের সময় অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দিকে ইঙ্গিত করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের ‘শাজারেহ তাইয়্যেবাহ এলিমেন্টারি স্কুল’-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এতে ১২০ শিশু ও ২৬ শিক্ষকসহ ১৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং মিনাব হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংঘাতের প্রকৃত মানবিক মূল্য, হতাহতের সংখ্যা এবং সামরিক অভিযানের দায়-দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: ইয়াহু (দাবিকৃত প্রতিবেদন)


