বিশেষ প্রতিবেদক

গতকাল সারা দেশে সাড়ে সাত ঘণ্টার ব্যবধানে তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রথমটি অনুভূত হয় গতকাল সকালেই—নরসিংদীর পলাশ এলাকায় রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩। এরপর সন্ধ্যায় পরপর দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নরসিংদী ও রাজধানী ঢাকা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে নরসিংদীতে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ঠিক এক সেকেন্ড পর, ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে রাজধানীর বাড্ডায় উৎপত্তিস্থল হওয়া ৩ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়। তিনটি ভূমিকম্পেরই গভীরতা ছিল অল্প এবং উৎপত্তি ছিল লোকাল ফল্টলাইনের কাছে।
ফোরশক—বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভূমিকম্পবিজ্ঞানীদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরপর ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলোকে ‘ফোরশক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণত বড় ভূমিকম্পের আগে ছোট মাত্রার কয়েকটি কম্পন হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এ ধরনের আরও ফোরশক ঘটে, তবে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাস্তব হুমকিতে পরিণত হবে।
একজন জ্যেষ্ঠ ভূমিকম্প গবেষক জানান, ‘‘সাধারণত ১৫ থেকে ২০টি ফোরশক পর্যবেক্ষণ করা গেলে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমান পরিস্থিতি সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমাদের অনুমান, এবার ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।’’
ঢাকার জন্য ভয়াবহ সম্ভাব্য চিত্র
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা আরও গভীর। তারা বলছেন, যদি ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়, তাহলে বিপর্যয় হবে ভয়াবহ। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাবেও উঠে এসেছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি।
-
হতাহত: এক লাখ থেকে তিন লাখ মানুষ
-
ভবন ধস: রাজধানীর প্রায় ৩৫ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়তে পারে
-
যোগাযোগ ব্যবস্থা: বড় ধরনের ব্যাঘাত; সড়ক ও সেতুতে মারাত্মক ক্ষতি
-
গ্যাস–বিদ্যুৎ–পানি: দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার ঝুঁকি
ঢাকার ভবনগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং সক্রিয় ফল্টলাইনের নিকটবর্তী অবস্থান শহরটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সতর্কতা ও প্রস্তুতির তাগিদ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়ার সময়। ভবনগুলোর কাঠামোগত ঝুঁকি নিরূপণ, জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা হালনাগাদ করা এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
সরকারি পর্যায়েও ঘন ঘন এ ধরনের কম্পন নিয়ে সতর্ক নজরদারি চলছে। তবে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে স্বল্পসময়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তারা মনে করেন।
শেষ কথা
এক দিনের ব্যবধানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনবার ভূকম্পন বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তারা মনে করছেন, আসন্ন কয়েক দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্প পূর্বাভাস দেওয়ার নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি এখনো নেই, তবে পরপর ছোট কম্পন ভবিষ্যৎ বিপদের জানান দিচ্ছে—এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার কঠোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


