বুধবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

১৩ জুনের সেই ট্রেন: সৈয়দপুরে জাতিগত নিধনের লোমহর্ষক ইতিহাস

পাঠক প্রিয়

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৫৭, আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

অনলাইন ডেস্ক  গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাসে একটি বিশেষ অভিযানে আটক করে এবং তাকে...

মহাবিশ্বের ইতিহাস পুনর্লিখন: অভিনব গ্যালাক্সি ক্লাস্টার চ্যালেঞ্জ করছে প্রচলিত ধারণা

অনলাইন ডেস্ক কানাডার গবেষকরা সম্প্রতি এমন একটি গ্যালাক্সি ক্লাস্টার আবিষ্কার করেছেন, যা মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও প্রাথমিক ইতিহাস সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে...

নাইজেরিয়া আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্সের সেমিফাইনালে: আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত

অনলাইন ডেস্ক মরক্কো, ১০ জানুয়ারি – আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্স (আফকন) ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে নাইজেরিয়া শক্তিশালী পারফরম্যান্সের পর আলজেরিয়াকে ২-০...

ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না : সালাহউদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশব্যাপী ঘটে...

সাম্প্রদায়িকতা হলো, একটি মানবতাবিরোধী প্রকৃতি : সুফি সাগর সামস্

সাম্প্রদায়িকতা হলো, একটি মানবতাবিরোধী প্রকৃতি। সাম্প্রদায়িকতার মাধ্যমেই মানুষের অধিকার, ঐক্যবদ্ধ শান্তি-শৃঙ্খলার সমাজ ও রাষ্ট্র বিনষ্ট হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বাড়ি-ঘরে...

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

১৯৭১ সালের ১৩ জুন—সৈয়দপুরের ইতিহাসে ভয়াল, রক্তাক্ত, অথচ বহুদিন উপেক্ষিত একটি দিন। দিনের আলো স্বাভাবিকভাবেই উঠেছিল, কিন্তু শহরের আকাশজুড়ে তখনও যুদ্ধের ঘন ছায়া। প্রতিটি রাস্তা–মহল্লায় টহল পাকবাহিনীর। চারদিকে আতঙ্কের ঝড় আর সন্দেহের চোখ। আর এই ভয়াল প্রেক্ষাপটেই সংঘটিত হয় সৈয়দপুরের কয়া গোলাহাট গণহত্যা—যা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ জাতিগত নিধনের ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে নথিভুক্ত।

নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি—নাকি পরিকল্পিত প্রতারণা?

১৯৭১ সালের সেই দিনটিতে শহরজুড়ে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে খবর—
সংখ্যালঘু হিন্দু ও মাড়োয়ারি পরিবারগুলোকে পাকিস্তানি সেনারা নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেবে।

বাড়িতে বাড়িতে তখন গভীর উদ্বেগ, কোথাও লুকানোর পথ নেই। সীমান্ত দূর, আর শহরজুড়ে ঘনিয়ে আসছে মৃত্যুর মেঘ। তাই অনেকেই এই ঘোষণায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন।

আশ্রয়, নিরাপত্তা ও বাঁচার প্রত্যাশায় শিশু-কিশোর, নারী, বৃদ্ধ—সকলেই রেলস্টেশনে ছুটে আসেন। রেলওয় কর্মীরা নাম নথিভুক্ত করেন; দুপুরের আগেই বিশেষ ট্রেন প্রস্তুত হয়। কিন্তু সেই ট্রেনের প্রকৃত গন্তব্য ছিল না কোনো সীমান্ত—
বরং সৈয়দপুরের উপকণ্ঠে কয়া গোলাহাট বধ্যভূমি

রেললাইনে থেমে যাওয়া জীবনগুলো

ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ার কিছুক্ষণ পর থেমে যায় রেলওয়ে কারখানার শেষ প্রান্তে। চারপাশ ঘিরে ফেলে পাকবাহিনী আর তাদের দোসর উর্দুভাষী অবাঙালিরা। ছোট পদচিহ্ন, কান্না-চিৎকার, মাতৃদয় ভাঙা আর্তনাদ—মুহূর্তেই সেই ট্রেন মৃত্যুকুঠুরিতে পরিণত হয়।

সেদিন সেখানে হত্যা করা হয় ৪৪৮ জন সংখ্যালঘু হিন্দু ও মাড়োয়ারি নারী–পুরুষ–শিশুকে
কারও নাম ডাক শোনা যায়নি, শোনা যায়নি আর ফিরে যাওয়ার আর্তি। সময় থমকে দাঁড়িয়েছিল কেবল রক্তধারায়। এ যেন মৃত্যুর লাইনে দাঁড় করিয়ে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্মম নিধন—একটি জাতিগত পরিচয়কে উপড়ে ফেলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

কেন সৈয়দপুর ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি?

ইতিহাস বলছে—১৯৪৭-এর দেশভাগের পর বিপুল সংখ্যক উর্দুভাষী অবাঙালি শরণার্থী আসেন সৈয়দপুরে। রেলওয়ে শহর হওয়ায় দ্রুতই তারা এখানে সুসংগঠিত হয়; ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় তাদের প্রভাব বাড়তে থাকে।

স্বাধীনতার প্রশ্নে তারা আনুগত্য দেখায় পাকিস্তান সরকারের প্রতি।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে—

  • পাকবাহিনীর সরাসরি সহযোগী হিসেবে কাজ করে

  • বাঙালিদের ঘরবাড়ি চিহ্নিত করে

  • ধরপাকড়, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞে অংশ নেয়

  • সৈয়দপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর ঘাঁটি শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে

এই বাস্তবতা সৈয়দপুরকে পরিণত করে এক দোসর-সংবলিত সামরিক তদন্তশালায়, যেখানে বাঙালিদের নিধন ছিল ক্ষমতার নিয়মিত প্রক্রিয়া।

গোলাহাট: স্মৃতি অস্পষ্ট, বধ্যভূমি এখনো অবহেলায়

এত বড় ভয়াবহ গণহত্যার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও কয়া গোলাহাট বধ্যভূমি এখনো পুরোপুরি স্মৃতিরক্ষা পায়নি। কিছু স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপিত হলেও সরকারি পর্যায়ে এর স্বীকৃতি ও গবেষণা খুবই সীমিত।

স্থানীয়দের দাবি—

  • ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে গণহত্যা হিসেবে

  • বধ্যভূমিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধের অন্তর্ভুক্ত করা

  • স্কুল–কলেজের পাঠ্যপুস্তকে এই অধ্যায় যুক্ত করা

  • বছরব্যাপী গবেষণা, নথিভুক্তি ও ভিকটিম পরিবারের জন্য পুনর্বাসন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি

এ যেন জাতির কাছে এক অসমাপ্ত দায়—মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে পূর্ণতা দিতে যে দায়িত্ব রাষ্ট্রের এখনও পালন করা বাকি।

জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে টার্গেটেড হত্যাকাণ্ড

বিশেষজ্ঞদের মতে, গোলাহাট হত্যাযজ্ঞ ছিল কেবল যুদ্ধের অংশ নয়—
এটি ছিল পরিকল্পিত জাতিগত নির্মূল–অভিযান (Ethnic Cleansing)

প্রথমে মানুষকে ‘উদ্ধার’ বা ‘নিরাপত্তা’ দেওয়ার নামে জড়ো করা হয়, এরপর দলবদ্ধভাবে হত্যা—এ ধরনের পদ্ধতি আন্তর্জাতিক গণহত্যা গবেষণায় সুস্পষ্টভাবে প্রিডিটারমাইন্ড এক্সটারমিনেশন হিসেবে শনাক্ত।

আজকের প্রজন্ম কি জানে সেই ট্রেনের গল্প?

আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে গোলাহাটের নাম হয়তো অপরিচিত। কিন্তু ইতিহাস বলে—
সেই বিশেষ ট্রেনটি শুধু মানুষ বহন করেনি; বহন করেছিল একটি সম্প্রদায়ের বিলাপে ভরা শেষ দিন।

গোলাহাট বধ্যভূমি তাই কেবল একটি স্থান নয়—
এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অবলোপিত, কিন্তু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ গণহত্যার দলিল

১৩ জুনের সেই দিনটি ইতিহাসে ফিরে আসে বারবার—
মৃত্যুর ট্রেনে উঠা ৪৪৮ মানুষের রক্তাক্ত স্মৃতি নিয়ে।
সৈয়দপুরের কয়া গোলাহাট আজও ফিসফিস করে—

“একটি জাতিকে মুছে দিতে যে নৃশংসতা দেখানো হয়েছিল, তা যেন কখনো ভুলে না যায় এই দেশ।”

সর্বশেষ সংবাদ

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৪, বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত

অনলাইন ডেস্ক  স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে রাশিয়া ইউক্রেনে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত শত ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি...

ভারতের শাক্সগাম অঞ্চল দাবি করল চীন

অনলাইন ডেস্ক ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পর এবার কাশ্মীরের শাক্সগাম উপত্যকাকেও নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করেছে চীন। বেইজিংয়ে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র...

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিদেশি সম্পত্তি ক্রোক ও জব্দের আদেশ

অনলাইন ভার্সন ঢাকার একটি আদালত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।...

ময়মনসিংহে পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা, আসামি ছিনতাই

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতারকালে পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন...

রাষ্ট্রকে নাগরিকবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় রূপান্তর করতে হবে : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

অনলাইন ডেস্ক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘নাগরিক ইশতেহার ২০২৬: জাতীয় নির্বাচন ও রূপান্তরের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মঙ্গলবার বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয়...

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য হতে হবে সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী : ড. মুহাম্মদ ইউনূস

অনলাইন ডেস্ক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কেবল চাকরির উপযোগী জনশক্তি তৈরি করা নয়; বরং সৃজনশীল, স্বাধীন চিন্তাশীল ও উদ্ভাবনী...

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার নতুন রেকর্ড

অনলাইন ডেস্ক আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে স্বর্ণ। প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে রুপার দামও...

মোবাইল ফোন আমদানি ও সংযোজনে শুল্ক হ্রাসের প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক সরকার দেশের নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল সেবা গ্রহণ সহজতর করতে এবং মোবাইল ফোনের মূল্য সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মোবাইল ফোন আমদানি...

উপদেষ্টা পরিষদে সয়াবিন তেল ও সার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   অন্তর্বর্তী সরকার দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায়...