
বগুড়া, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ : গুড়ার কৃষি মাঠে এবার আমন ধানের চাষে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন না হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে, আর ফলন হয়েছে সন্তোষজনক। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা-মাড়াইয়ের ব্যস্ততা চলছে, মাঠের চারপাশে সোনালি ধানের সমারোহ কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।
বগুড়ার সদর, শেরপুর, শিবগঞ্জ, নন্দীগ্রাম, গাবতলী ও ধুনটসহ প্রায় সব উপজেলায় আমন ধানের চাষ হয়ে থাকে। সাধারণত জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ধান রোপণ করা হয় এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ধান কাটা হয়।
মাঠে দেখা গেছে, কেউ কাস্তে হাতে ধান কেটে নিচ্ছেন, কেউ মাড়াই মেশিনে ফসল প্রক্রিয়াজাত করছেন। পাশাপাশি ধান শুকানোর দৃশ্যও চোখে পড়ছে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, এই বছরের বৃষ্টিপাতের কারণে জমি নরম ছিল এবং সেচে অতিরিক্ত খরচ করতে হয়নি। উচ্চফলনশীল জাতের বীজ সরবরাহও ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রফিকুল ইসলাম নামের একজন কৃষক বলেন, “গত দুই বছরের তুলনায় এবার ধান অনেক ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ মন পর্যন্ত ফলন হচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় ঘরের খরচও চলবে, আবার ধারদেনাও শোধ করা যাবে।”
অন্য কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, “শেষ দিকের বৃষ্টিতে কিছু ধান নুয়ে পড়েছিল, তবে ফলনে তেমন ক্ষতি হয়নি। বাজারে দামও মোটামুটি রয়েছে, তাই এবার মনে শান্তি আছে।”
ফলন ও ন্যায্য বাজারমূল্যের সংমিশ্রণে বগুড়ার কৃষকদের মধ্যে আমন ধান চাষে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।


