মোঃ খুরশীদ আলম সরকার

নির্বাচনের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সহিংসতা, হামলা ও অগ্নিসংযোগে। গত শুক্রবার রাতে গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বরিশালের মুলাদীতে তিনটি পৃথক ঘটনায় স্বতন্ত্র ও বিরোধী জোটের প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন, ভাঙচুর করা হয়েছে দুই ডজনের বেশি মোটরসাইকেল, এবং একাধিক স্থানে আগুন দেওয়া হয়েছে নির্বাচনি প্রচার সামগ্রীতে।
এই সহিংসতা নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও এখনো কোথাও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
গাইবান্ধা: স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর দফায় দফায় হামলা
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থী ফারুক আলমের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নে লিফলেট বিতরণ শেষে বাজারে চা পান করছিলেন নিশাদের কর্মীরা। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন এবং ভাঙচুর করা হয় ৭টি মোটরসাইকেল। একই রাতে পদুমশহর এলাকায় একটি মতবিনিময় সভার বাইরে রাখা আরও ৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
আহতদের উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ বলেন,
“বিএনপি প্রার্থী ফারুক আলমের সমর্থক ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুলিপ তার বাহিনী দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। আমি থানায় ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করব।”
তবে অভিযুক্ত বিএনপি প্রার্থী ফারুক আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বে থাকা বিচারক তানজির হোসেন বলেন,
“আমরা মৌখিকভাবে বিষয়টি জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: দাঁড়িপাল্লার অফিসে হামলা, ফেস্টুনে আগুন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে বিনোদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দুর্বৃত্তরা অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।
একই রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত প্রার্থীর প্রচার সামগ্রী, ফেস্টুন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
জামায়াত প্রার্থীরা এ ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষকে দায়ী করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
বরিশাল: এবি পার্টির প্রচারে হামলা, জামায়াতের বিক্ষোভ
বরিশালের মুলাদীতে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা ও কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
শুক্রবার বিকেলে ঈগল প্রতীকের প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আরিফ হোসেন বয়াতির ওপর যুবদল নেতা-কর্মীরা হামলা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আহত কর্মী বাদী হয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আরিফুর রহমান টিটু, পৌর যুবদল সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম শাওন হাওলাদারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
এর প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১২টায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মুলাদী বন্দর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও পরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন,
“নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা ও কর্মীর ওপর হামলা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। প্রশাসনের নীরবতা এই সহিংসতাকে উৎসাহিত করছে।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
তিন জেলার ঘটনাতেই এখনো পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এই বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে নির্বাচন কমিশনের মাঠ প্রশাসন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
নির্বাচনি সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে বাকি সময়জুড়ে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।


