বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

দূর্নীতি দমন কমিশনের ভিতরেও দুর্নীতি রয়েছে : দুদক চেয়ারম্যান

পাঠক প্রিয়

বিশেষ প্রতিনিধি

 

দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সর্বদা বাংলাদেশে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে দুদককে অনেকেই বিরোধী দলকে হয়রানি করার হাতিয়ার হিসেবে দেখেছিলেন। তবে ৫ আগস্টের পর কমিশনকে পুনর্গঠন ও সংস্কার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। নতুন গঠিত কমিটি দুদককে “স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা” নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। কিন্তু বাস্তবে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

সিলেটের রিকাবীবাজারে কবি নজরুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক গণশুনানি সেই প্রশ্নের প্রাসঙ্গিক ছবি তুলে ধরেছে। দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন, শুধু দীর্ঘসূত্রতা নয়, কমিশনের ভিতরেও দুর্নীতি রয়েছে। ২৩ নভেম্বরের গণশুনানিতে ৭৩টি অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিজের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান।

চেয়ারম্যান মোমেন জানান, যেসব ব্যক্তি সেবা দিচ্ছেন—প্রধানত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী—তাদের বিরুদ্ধে প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানেরই অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিত রেইড করছি, কিছুটা উপকারও হচ্ছে।”

একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো ওসমানী মেডিকেল কলেজের লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ। অভিযোগকারী বিশ্বজিৎ দাস জানান, লাইব্রেরিয়ান পদে চাকরির জন্য একজন কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়েছিলেন কিন্তু চাকরি দেননি। দুদক চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে ওই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত এবং তদন্তের নির্দেশ দেন।

গণশুনানিতে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে:

  • হাসপাতালে অতিরিক্ত টিকিট ফি নেওয়া ও টাকা ছাড়া শয্যা না দেওয়া।

  • পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ লেনদেন।

  • কম্পোজের দোকানগুলোর অবৈধ অর্থ লেনদেন।

  • জালালাবাদ গ্যাস সংযোগে অনিয়ম।

চেয়ারম্যান মোমেন আরও বলেন, দুদকে অনেক কর্মী দুর্নীতির তথ্য প্রদান করেন, কিন্তু গণমাধ্যম তা প্রকাশ করেন না। “আমরা গণমাধ্যমকে সবসময় গুরুত্ব দেই,” তিনি জানান।

যদিও দুদককে পুনর্গঠন ও সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করা হয়েছে, কমিশনের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতার সমস্যা এখনও অগ্রাহ্য করা যায়নি। গণশুনানি ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে কিছু ইতিবাচক ফল দেখা যাচ্ছে, কিন্তু চ্যালেঞ্জগুলি এখনও রয়েছে।

নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা মনে করেন, দুদকের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য গণমাধ্যম ও জনসাধারণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ মনিটরিং ও দায়বদ্ধতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ