বিশেষ প্রতিবেদক

তেহরান, ইরান: শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। সরকারি সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই হামলায় খামেনির সঙ্গে অন্তত ৩০ জন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা, সহ পরিবারিক সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন।
হামলার পটভূমি
রয়টার্স এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ও ইসরায়েলের গোয়েন্দারা কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান নজরদারিতে রাখছিল। শনিবার সকাল ৬টায় শুরু হওয়া অভিযান প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলেছে এবং ৯টা ৪০ মিনিটে খামেনির নিরাপত্তা বেষ্টিত ভবনে ৩০টি বোমা ফেলা হয়। হামলার সময় খামেনি একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
নিহতদের তালিকা
খামেনির সঙ্গে হামলায় নিহত হয়েছেন:
-
সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ
-
বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ
-
সেনাবাহিনীর প্রধান আবদুল রহিম মুসাভি
-
আলি শামখানি
-
আইআরজিসির কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর
-
খামেনির পরিবার: মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ ও নাতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মন্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, মার্কিন ট্র্যাকিং সিস্টেম খামেনির অবস্থান শনাক্ত করেছিল এবং হামলায় তাকেসহ অন্যান্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
খামেনির মৃত্যুর পর ইরান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি দিয়েছে। দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার ফলে ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সেনা প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত জাতিসংঘ, ইউরোপীয় দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্র এই হামলার উপর মন্তব্য করলেও, প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।


