
বিশেষ প্রতিবেদক : কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সড়ক অবরোধ, ঝটিকা মিছিল, যানবাহনে আগুন দেওয়া ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে সকাল থেকে রাজধানীসহ কয়েকটি জেলায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সকালে বিভিন্ন জায়গায় দলটির নেতাকর্মীরা হঠাৎ করে সড়কে জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। বেশ কিছু স্থানে সড়ক অবরোধের ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা গাড়িতে আগুন দেয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এসব ঘটনায় আতঙ্কে সাধারণ মানুষ সড়কে নামতে দ্বিধায় ছিলেন।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানচলাচল ছিল তুলনামূলকভাবে কম। প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে গণপরিবহন চলাচল করলেও ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল সীমিত। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব, গাবতলীসহ বিভিন্ন এলাকার চিত্র একই রকম দেখা যায়। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও এনসিপি’র নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারায় ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যদের কঠোর অবস্থান দেখা গেছে। প্রতিটি মোড়ে তল্লাশি চৌকি বসিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র্রীয় কার্যালয়ে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে সন্দেহভাজন এক কিশোর ও এক যুবককে আটক করা হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে কিশোরকে ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দু’জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিছু পরিত্যক্ত ব্যানার ও ময়লা-আবর্জনা জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। মিরপুর-১৪ নম্বর সেকশন থেকে দু’টি ককটেলসহ নাঈম নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ওদিকে রাজধানীতে নাশকতার চেষ্টা ও ঝটিকা মিছিলের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৪৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ তথ্য জানান ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক নাশকতার কারণে রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহনের সংখ্যা গতকালও ছিল কম। সকালে বাসের সংকটে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী যাত্রীরা। তবে পুলিশের বাড়তি নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে।
দুপুরের পর রাজধানীর অধিকাংশ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। যাত্রীসাধারণও ধীরে ধীরে সড়কে নামতে থাকেন। তবে পরিবহন মালিকরা জানান, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বাসের সংখ্যা বাড়াতে তারা সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট বসিয়েছে। এদিকে নাশকতার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


