শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

জুলাইয়ে ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবাসী আয়

পাঠক প্রিয়

দেশে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সদ্যবিদায়ী জুলাই মাসে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ১৯১ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে সর্বনিম্ন ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রবাসী আয়সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত মাসের প্রথম ৩ সপ্তাহে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। এর মধ্যে ১ থেকে ২০ জুলাই এসেছে ১৪২ কোটি ৯৩ লাখ ডলার, এবং ২১ থেকে ৩১ জুলাই এসেছে ৪৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। বিশেষ করে, ৩১ জুলাই এক দিনেই এসেছে ১২ কোটি ডলার।

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৯ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ ছিল। এ ছাড়া, টানা ৫ দিন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এবং ১০ দিন মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকার ফলে দেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈদেশিক লেনদেন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

জুন মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২৫৪ কোটি ডলার আয় পাঠিয়েছিলেন, যা গত তিন বছরের মধ্যে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। এর আগে, ২০২০ সালের জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ২৫৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশ থেকে প্রবাসী আয় পাঠালে ব্যাংকগুলো তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিতরণ করতে বাধ্য। তবে, রেমিট্যান্স হাউসগুলো যদি এই আয় ধরে রাখে, তাহলে তা দেশে আসতে কিছুটা সময় লাগে। সাধারণত এই ক্ষেত্রে দুই-তিন দিনের বেশি সময় লাগে না।

প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ১২ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ডেকে প্রবাসী আয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় সংগ্রহে প্রতি ডলার ১১৭ থেকে ১১৮ টাকায় সংগ্রহ করে আসছিল। তবে, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় তাদের কিছুটা বাড়তি দাম দিয়ে হলেও বৈধ পথে আয় বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম ১২০ টাকায় উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশে ডলার সংকট চলছে। এই সংকট কাটাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে প্রবাসী আয়সহ বিদেশ থেকে অর্থ আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে তদারকি কমিয়েছে এবং বৈধ পথে অর্থ আনার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন শিথিল করেছে। গত কয়েক মাসে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল প্রবাসী আয় আসার ক্ষেত্রে। তবে, গত মাসে সেই ধারায় কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে।

২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে বৈধ পথে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যায়। তখন প্রতি মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ গড়ে ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ এক পর্যায়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পণ্য আমদানির খরচ বেড়ে ডলার সংকট দেখা দেয়, যা এখনো কাটেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ২১৬১ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবাসী আয় এসেছে ২৩৯১ কোটি ডলার।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ