নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত একটি ‘দুষ্টচক্রে’ বন্দি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, পুরো খাতকে এমনভাবে পরিচালিত করা হয়েছে যাতে কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে, ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়ে বরং আমদানি নির্ভরতা বেড়েছে।
রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপের যৌথ আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ঢাকা স্ট্রিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
ড. তিতুমীর বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এবং তার বাস্তব ব্যবহারের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হওয়ায় জনগণের বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে। এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে তিনি ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’-এর বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে করা অনেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চুক্তি যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ করে করা হয়নি। এমনকি এসব চুক্তিকে আইনের মাধ্যমে আড়াল করা হয়েছে, যা প্রকৃত ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। এর ফলে জ্বালানি খাতে একটি ‘অলিগার্কিক’ কাঠামো গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকার সহজে মূল্য সমন্বয় করতে পারছে না। কারণ এতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি খাতের সংকট উত্তরণে তিনি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন। এগুলো হলো— নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, ভোক্তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যৌক্তিক মূল্য কাঠামো নির্ধারণ, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে জোর দেওয়া, দেশীয় জ্বালানি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সুস্পষ্ট বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন সাময়িকভাবে আমদানি নির্ভর হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভরতার দিকে যেতে হবে। এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দেশীয় শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গ্যাস অনুসন্ধানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স-এর সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ড. তিতুমীর। তিনি বলেন, দেশে এখনো জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নীতিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই কাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হলে সরকারকে ভবিষ্যতেও বিপুল ভর্তুকি বহন করতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।


