নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ১৮ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে উভয় দেশের শিল্পখাত আরও শক্তিশালী ও টেকসই হবে বলে মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদ হাতেম।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-এর নবরাত্রি হলে অনুষ্ঠিত ‘ইনটেক্স বাংলাদেশ-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমই)-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি দেশের স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা ও বিকাশের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা যাই করি না কেন, যত ব্যবসাই করি, আমাদের লোকাল ইন্ডাস্ট্রি বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বিশেষ করে স্পিনিং মিলসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পগুলোকে টিকিয়ে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের শিল্পভিত্তি শক্তিশালী না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।
বিকেএমই সভাপতি বলেন, শিল্পখাতকে সুরক্ষা দিতে সরকার কখনো কখনো স্থলপথে আমদানি-রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এসব সিদ্ধান্ত মূলত দেশীয় শিল্পকে সেফগার্ড দেওয়ার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় শিল্পকে রক্ষা করতে গিয়ে যেন শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে গিয়ে যেন আমরা কম্পিটিটিভনেস হারিয়ে না ফেলি—এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দুই দেশের বিজনেস কমিউনিটি পারস্পরিক সহযোগিতা, শ্রদ্ধা ও সুসম্পর্কের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করলে উভয় দেশের শিল্পখাত লাভবান হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
‘ইনটেক্স বাংলাদেশ-২০২৬’ আয়োজনে বাংলাদেশ ও ভারতের টেক্সটাইল, পোশাক এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে শিল্পোন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।


