অনলাইন ডেস্ক

দেশের টেকনোলজি, নন-টেকনোলজি, কৃষিভিত্তিক স্টার্টআপ, ইনোভেটর ও উদ্যোক্তাদের নীতিগত সহায়তা, অর্থায়ন এবং জায়গাসহ সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ : নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশের তরুণ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ড ও সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেবেন। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা উদ্যোক্তা ও শিল্পভিত্তিক ইকোসিস্টেমকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা।
তিনি বলেন, “জিঞ্জিরায় অনেক কিছু তৈরি হচ্ছে, সৈয়দপুরে কনস্ট্রাকশন হাব গড়ে উঠেছে। আমরা চাই প্রযুক্তিভিত্তিক, অ-প্রযুক্তিভিত্তিক এবং কৃষিভিত্তিক—সব ধরনের উদ্যোক্তাকে এই ইকোসিস্টেমে যুক্ত করতে।”
উপদেষ্টা জানান, সরকার উদ্যোক্তাদের জন্য নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি লোকেশন ও জায়গার ব্যবস্থা, প্রাথমিক অনুদান এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাও দেবে। এ কার্যক্রমে পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টর একসঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
তরুণ উদ্যোক্তাদের অবদান তুলে ধরে রেহান আসিফ বলেন, গত তিন মাসে তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেমিনারে অংশ নিয়ে স্টার্টআপ ও ইনোভেটরদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এছাড়া চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও মুক্ত আলোচনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর যৌথ উদ্যোগে ‘অঙ্কুর’ নামে একটি স্টার্টআপ ফান্ড ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে বড় স্কেলআপ পর্যায়ের কোম্পানিগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে।
রেহান আসিফ বলেন, “কেউ যদি ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন, আবার কেউ যদি ৫ কোটি টাকার কোম্পানি স্কেলআপ করতে চান—প্রতিটি ধাপেই সরকার সহায়তা দিতে চায়।”
তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো দেশে সফল স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও সঠিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ হাব তৈরি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমদাদ উল বারী। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন মোহাম্মদ জুলফিকার, নুরুল কবীর, খালেদ আবু নাসের, নুরুল মাবুদ চৌধুরী, তাইমুর রহমান এবং ড. লুৎফা আক্তার।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাহেদ আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিআরএনবি সভাপতি সমীর কুমার দে এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন।


