শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীকে অবলম্বন করতে হবে মহানবীর সংবিধান ‘মদিনা সনদ’ : ড. সুফি সাগর সামস্

পাঠক প্রিয়

সংসদে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিল পাস

অনলাইন ডেস্ক জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল-২০২৬”। শুক্রবার (বিকাল সাড়ে...

সংকট আতঙ্কে জ্বালানি মজুত: বাসা হয়ে উঠছে ‘ঝুঁকির পেট্রোলপাম্প’

বিশেষ প্রতিবেদন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। তবে বাস্তবে জ্বালানি সরবরাহে...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর...

আমানতকারীদের সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ পাস

অনলাইন ডেস্ক আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং দেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘আমানত সুরক্ষা বিল,...

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য...

সার্বজনীন স্থায়ী শান্তি, ভ্রাতৃত্ব, নিরাপত্তা, মানবাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় মদিনা সনদ এর বিকল্প নেই। মদিনা সনদ পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান। মহানবী মুহম্মদ (স) সর্বপ্রথম জনগণের কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্রীয় শাসনে দেশের সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনগণের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তিনি এই সংবিধান প্রণয়ন করেন। এই সংবিধানের মাধ্যমে তিনি পৃথিবীতে প্রথম নাগরিকত্ব প্রথা এবং জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রথার প্রচলন করেন। তিনি পৃথিবীর প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

মদিনা সদন মুসলিম ও অমুসলিন সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। হিংসা, বিদ্বেষ ও কলহের অবসান করেছে। মদিনাবাসী বিপদে একে অপরকে সাহায্য করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। মদিনা সনদ গোত্র প্রথার বিলোপসাধন করে মানবিক ভ্রাতৃত্ববোধের ভিত্তিতে হযরত মুহম্মদ (স) এর ওপর রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিল। অধ্যাপক পি. কে. হিট্টির মতে, ‘মদিনা প্রজাতন্ত্রই পরবর্তীকালে বৃহত্তম ইসলামি সা¤্রাজ্যের ভিত্তিমূল স্থাপন করে’। মদিনা সনদ শুধু ইসলামি সা¤্রাজ্যের ভিত্তিমূল নয়, বরং আধুনিক শাসনতন্ত্রের ভিত্তিমূল স্থাপন করেছে। মদিনা সনদ প্রনয়ণের পূর্বে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে কোনো সংবিধান প্রণিত হয়নি। জনগণের মতামত নিয়ে আইন তৈরি, নাগরিকত্ব প্রথার প্রচলন, জনগণের ভোটে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচন ইত্যাদি মদিনা সনদের মাধ্যমেই বিশে^ প্রচলিত হয়েছে।

মদিনা সনদ মুসলিম ও অমুসলিমদের ধর্মে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিশ্চয়তা বিধান করে। মদিনার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকেরা একে অপরের ধর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, হযরত মুহম্মদ (স) এ শর্ত দ্বারা যে মহানুভবতা ও সহিঞ্চুতার পরিচয় দিয়েছেন তা বিশে^র ইতিহাসে বিরল। মদিনা সনদের মাধ্যমে মহানবী (স) দীর্ঘকালব্যাপী যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত আরব জাহানকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি মহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত মদিনা নগরীর পুনর্গঠন করেন। মদিনা সনদ প্রণিত হওয়ায় শতধাবিভক্ত মদিনাবাসী শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে পায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারিত হয়। মুসলিম-অমুসলিমদের মধ্যে মজবুত সম্প্রীতি এ সনদের ফলেই গড়ে ওঠে।

মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মহানবী (স) মদিনায় শান্তি-শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মদিনার ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক, আনসার ও মুহাজির অর্থাৎ সমগ্র মদিনাবাসীকে নিয়ে একটি বহুজাতিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করেন। এই কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি হলো, রাষ্ট্রীয় শাসনতান্ত্রিক সংবিধান মদিনা সনদ। এই সনদের মাধ্যমে মদিনার সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য স্থাপিত হয়। রাষ্ট্রীয় সংবিধান মদিনা সনদের মাধ্যমে সাম্যের মহান নীতি, আইনের শাসন, বর্ণ ভেদাভেদ বিলুপ্ত, ধর্মের স্বাধীনতা, জাতি, ধর্ম ও ধর্মীয় সহিঞ্চুতা ঘোষণা করা হয়। সর্বোপরি এ সনদের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র তথা আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তিমূল স্থাপিত হয়। ৬২২ ক্রিস্টাব্দের পূর্বে পৃথিবীতে জনগণের ভোটে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচন করার প্রথা ছিল না।

দুর্ভাগ্য আরববাসীর। তারা ৬৩২ ক্রিস্টাব্দে আরব জাহানের মহান রাষ্ট্রপতি মুহম্মদ (স) যখন মৃত্যুশয্যায় তখন আরব জাহানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন এবং মহানবীর শাসনতান্ত্রিক সংবিধান পরিত্যাগ করে খলিফা নির্বাচন করে খিলাফতের শাসনব্যবস্থার প্রচলন করেছিল। এই নির্বাচনী জনসভা ডাকা হয়েছিল, মদিনার ছাকিফা বানু সাঈদায়। এ সভার আয়োজন করেছিল, মদিনার আনসার ও মক্কার উমাইয়া কুরাইশ জনগোষ্ঠীরা। নেপথ্যে ছিলেন, ইয়াজিদের দাদা কুরাইশ সর্দার আবু সুফিয়ান।

এ সভায় টানা তিন দিন উচ্চস্বরে তর্কবিতর্ক হয়। একে অপরের কলার ধরে টানাটানি, দাঁড়ি ধরে টানাটানি, হাতাহাতি, কিল, ঘুষি মারামারি হয়। মদিনার আনসার মুসলমানরা তাদের গোত্র থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে চেয়েছিল। পক্ষান্তরে উমাইয়া কুরাইশ জনগোষ্ঠী তাদের গোত্র থেকে মহানবীর উত্তরাধিকারী হিসেবে খলিফা নির্বাচন করতে চেয়েছিল। এই দুই পক্ষের তিন দিনের বিশৃঙ্খলার এক পর্যায়ে হযরত উমর (রা) তরবারি উচিয়ে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) কে খলিফা হিসেবে প্রস্তাব করেন। এ প্রস্তাবের পর হযরত উমরের তেজস্বী তরবারির মুখে কেউ পাল্টা তরবারি উচিয়ে প্রতিবাদ করার সাহস করেনি। উমাইয়া কুরাইশ গোষ্ঠী চিৎকার করে হযরত উমরের প্রস্তাবকে সমর্থন জানায়। হযরত আবু উবাইদা (রা) মৌন সমর্থন করেন এবং অন্যান্য আনসার জনগোষ্ঠী নীরব থাকেন। এভাবে হযরত উমরের তরবারির ক্ষমতার জোরে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন এবং খলিফা প্রথার প্রচলন করেন। খলিফা নির্বাচনে ব্যস্ত থাকার কারণে তারা মহানবীর নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

হযরত আবু বকর সিদ্দিক মহানবীর অনুকরণে আরব জাহানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হয়ে খলিফা নির্বাচিত হয়েছিলেন কেন? এই প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, ‘হযরত আবু বকর সিদ্দিক মহানবীর ইন্তেকালের পর ইসলামের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন, কোনো নির্দিষ্ট ভূখন্ডের প্রথাগত শাসক হিসেবে নয়। এই পদের মূল লক্ষ্য ছিল, কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা এবং উম্মাহর ঐক্য রক্ষা করা’।

কুরআন মজিদে শাসনব্যবস্থার কোনো রূপরেখা নেই। কুরআনে শাসনব্যবস্থা না থাকার কারণ হলো, রাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র হিসেবে আল্লাহ সংবিধান দিয়েছেন। মদিনা সনদ আল্লাহর অনুমোদিত সংবিধান। আর সুন্নাহ হলো, ‘মহানবীর বাণী, কর্ম, সম্মতি এবং তাঁর গুণাবলীর সমষ্টি’। রাষ্ট্রীয় সংবিধান ‘মদিনা সনদ’ হলো, মহানবীর মৌলিক সুন্নাহ এবং কর্ম। এই সংবিধান মহানবী নিজে প্রণয়ন করেছিলেন। পক্ষান্তরে খলিফা নির্বাচন, খিলাফতীয় শাসনব্যবস্থা কুরআন ও সুন্নাহ কিংবা মহানবীর প্রণিত বিধান নয়। আর খলিফা নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুশমনে পরিণত হয়এবং মদিনা সনদের ভিত্তিতে আরব জাহানে মুসলিম-অমুসলিমদের যে সুদৃঢ় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল তা স্বমূলে ধ্বংস হয়ে যায়।

হযরত আবু বকর সিদ্দিক খলিফা নির্বাচিত হয়ে মহানবীর উদারতান্ত্রিক বহুত্ববাদী শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে একনায়কতান্ত্রিক খিলাফতীয় শাসনব্যবস্থার প্রচলন এবং মহানবী প্রণীত সংবিধান ‘মদিনা সনদ’ পরিত্যাগ করেছিলেন! আল্লাহ-রসুলের অপরিহার্য শাসনতন্ত্র পরিত্যাগ করে খিলাফতীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। তিনি কিভাবে মহানবীর খলিফা কিংবা প্রতিনিধি নির্বাচিত হন? তার এই খলিফা নির্বাচন এবং খিলাফতের শাসনতন্ত্র কুরআন সুন্নাহর আলোকে কি করে ইসলামসম্মত হয়?

একজন রাষ্ট্রনায়ক যখন মৃত্যুর যন্ত্রণায় বিছানায় ছটফট করেন তখন তার অনুসারীরা কি নতুন রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচনী জনসভা করতে পারেন? কিংবা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য কি নির্বাচনী জনসভা করতে পারেন? রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যুর সময় তার পাশে না থেকে তার সহকর্মীরা কি নতুন রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচনের জন্য জনসভা করতে পারেন? কোনো সভ্য জাতি কি এমন অসভ্য কার্য করতে পারে? যে জাতির মধ্যে ন্যুনতম মনুষত্ব থাকে, সে জাতি এমন কর্মকান্ড করতে পারে না। এমন কার্যক্রম বনের পশুরাও করে না। কিন্তু মক্কার কুরাইশ এবং মদিনার আনসার জনগোষ্ঠীর একাংশ তা করেছে। তারা আরব জাহানের মহান রাষ্ট্রপতি হযরত মুহম্মদ (স) এর ইন্তেকালের সময় হযরত আবু বকর সিদ্দিককে খলিফা নির্বাচিত করেছিল।

সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন। এই ইন্তেকালকালীন সময়ে বিএনপির একাংশ যদি কাউন্সিল করে বিএনপির কোনো এক নেতাকে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত করত এবং বিএনপির উদারচিন্তার বহুত্ববাদী গঠনতন্ত্র বাতিল করে একনায়কতান্ত্রিক গঠনতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রচলন করত তাহলে বিএনপির সারাদেশের নেতাকর্মী কিংবা বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান কি ওই ব্যক্তিকে চেয়ারপারসন এবং একনায়কতান্ত্রিক নতুন গঠনতন্ত্র মেনে নিতেন? উত্তর হলো, কখনই না।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খলিফা নির্বাচনের জন্য মহানবী হযরত মুহম্মদ (স) এর ইন্তেকালের সময়কে বেছে নেওয়া হয়েছিল কি কারণে? মহানবীর দাফন অনুষ্ঠান সম্পন্ন এবং শোকার্ত দিনগুলি অতিক্রম করে কি নির্বাচন করা হলে কিে কোনো সমস্যা হতো? আর মদিনার সমগ্র জনগণ এই নির্বাচনী জনসভায় কেন যোগদান করেনি? মহানবীর ইন্তেকালকালীন সময়ে খলিফা নির্বাচনের সময় নির্ধারণের অন্তরালের কারণ কি ছিল?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় যে, মহানবী মুহম্মদ (স) এর ইন্তেকালকালীন মুহুর্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর দুর্বল সময় ছিল। মুসলমানরা তো বটেই, সমগ্র আরব জাহান তখন শোকার্ত ছিল। তাদের মনোবল বলতে তখন কিছু ছিল না। এজন্য তারা নির্বাচনী জনসভায় যোগদান করেনি। মুসলমানদের এই শোকার্ত দুর্বল সময়টিই বেছে নিয়েছিল উমাইয়া কুরাইশ ও আনসার জনগোষ্ঠীর একাংশ। তারা জানত, এই সময় খলিফা নির্বাচন না করলে খলিফা পদ্ধতির প্রচলন করা যাবে না, মদিনা সনদ (সংবিধান) অনুযায়ী জনগণের ভোটে মহানবী যেভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, একইভাবে আরব জাহানের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করতে হবে। স্বাভাবিক সময়ে জনগণের ভোটে নির্বাচন হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন হযরত আলী (রা)। কারণ, একমাত্র উমাইয়া কুরাইশ গোষ্ঠী ব্যতীত মহানবী (স) এর পরে হযরত আলী সকল সম্প্রদায়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি ছিলেন।

মদিনার আনসার এবং মক্কার উমাইয়া কুরাইশ জনগোষ্ঠী খলিফা নির্বাচনের জন্য জনসভার আয়োজন করেছিলেন কিসের ভিত্তিতে? এ প্রশ্ন এজন্য যে, মহানবী মুহম্মদ (স) প্রণিত “মদিনা সনদ” সংবিধানে খলিফা নির্বাচনের বিধান নেই। কুরআন মজিদের খলিফা নির্বাচনের বিষয় লিপিবদ্ধ নেই। মূলতঃ খলিফা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মক্কার উমাইয়া কুরাইশ জনগোষ্ঠী তাদের পূর্বাস্থায় ফিরে গিয়েছিলেন। মহানবী মুহম্মদ (স) এর নবুয়ত লাভের পূর্বে যেভাবে তারা সামাজিক শাসন-শোষণ চালাতেন, খিলাফত কায়েম করার মধ্য দিয়ে উমাইয়া কুরাইশরা তাদের পূর্ব পুরুষের শাসনতন্ত্রে ফিরে গিয়েছিলেন।

আল্লাহর অনুমোদিত সংবিধান “মদিনা সনদ” এ খলিফা নির্বাচনের বিধান ছিল না। মহানবী রসুলে করিম (স) মদিনা সনদের আলোকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ইন্তেকালের পূর্বক্ষণ পর্যন্ত আরব জাহানের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছিলেন। আনসার ও উমাইয়া কুরাইশদের খলিফা নির্বাচনের জনসভা ইসলামসম্মত ছিল না। তারা মহানবীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেনি। বৈধ ছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা। তারা রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের আয়োজন করতে পারতেন। যদি তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতেন আর সেই ধারাবাহিকতা বর্তমানেও অব্যাহত থাকত তাহলে সারাবিশ্বে ইসলামি শাসনতন্ত্র কায়েম থাকত।

খলিফা নির্বাচন প্রথা মহানবীর প্রণিত সংবিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। মহানবী হযরত মুহম্মদ (স) শুধু মুসলমানদের রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমগ্র আরববাসীর রাষ্ট্রপতি। তাঁর রচিত মদিনা সনদ ছিল, উদারচিন্তার অসাম্প্রদায়িক বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক সংবিধান। পক্ষান্তরে খিলাফতের শাসনতন্ত্র হলো, একত্ববাদী একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা।

মহানবী মুহম্মদ (স) এর শাসনামলে ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক ও অন্যান্য জনগোষ্ঠী ছিল মুসলিম জাতির পরম বন্ধু এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সহযোদ্ধা। তারা মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল। মক্কা বিজয়কালেও তারা মহানবীর সহযোদ্ধা ছিল। কিন্তু খিলাফত কায়েম হওয়ার পর থেকে ইয়াহুদি, খ্রিস্টানসহ সমগ্র জনগোষ্ঠী মুসলমানদের চরম শত্রুতে রূপান্তর হয়েছে। একই সাথে হাশেমি কুরাইশ এবং উমাইয়া মুসলমানরা শত্রুতে পরিণত হয়। এর ধারাবাহিকতা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে তারা তৌহিদী জনতার ব্যানারে মব জাস্টিজ করে যখনতখন আউলিয়া কিরামের মাজারে আক্রমন করে, মাজার থেকে লাশ উঠিয়ে আগুনে পুড়িয়ে উল্লাস করে। উমাইয়া কুরাইশরা মহানবীর শাসনতন্ত্র পরিত্যাগ করে উমাইয়া খিলাফতের শাসন কায়েম করার ফলে বর্তমানে মুসলমানরা পৃথিবীর সকল জাতি-ধর্মের দুশমন এবং ইরান ব্যতীত মধ্যপ্রাচ্যের খিলঅফতের অনুসারী রাষ্ট্রগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোলামে পরিণত হয়েছে।

সুতরাং উমাইয়া খিলাফততন্ত্র কোনোভাবেই ইসলামি শাসনতন্ত্র নয়। খিলাফতীয় শাসনব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের একা করে দিয়েছে। ইসলামকে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী ধর্ম হিসেবে পরিচিত করেছে। বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক ও আর্থিকভাবে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামি দলগুলোকে উমাইয়া শাসকদের ইসলামের নামে রটিয়ে দেওয়া কুরআন ও সুন্নাহর শাসনতান্ত্রিক বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাদেরকে অবলম্বন করতে হবে, মহানবী মুহম্মদ (স) এর উদারচিন্তার বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক সংবিধান মদিনা সনদ।

ড. সুফি সাগর সামস্
ঋারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।

সর্বশেষ সংবাদ

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫...

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যদিও...

সংকট আতঙ্কে জ্বালানি মজুত: বাসা হয়ে উঠছে ‘ঝুঁকির পেট্রোলপাম্প’

বিশেষ প্রতিবেদন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। তবে বাস্তবে জ্বালানি সরবরাহে বড় কোনো সংকট না থাকলেও,...

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু

অনলাইন ডেস্ক পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার বিকেলে Islamabad-এ এ বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Al...

জনপ্রিয় সংবাদ