রবিবার, মে ১৭, ২০২৬

যে কারণে আল্লামা রশিদ আহমদ গাংগুহিকে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের বদলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল

পাঠক প্রিয়

টিসিবির ট্রাকসেলে উপচে পড়া ভিড়, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক রাজধানীসহ সারা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ডিম, ভোজ্যতেল, ডাল, সবজি, মাছ ও...

চাঁদপুরে বিশ্ব খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

চাঁদপুর প্রতিনিধি : পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুরের...

আবুল খায়ের গ্রুপের ‘এম-রাইজ হিরো’ সম্মাননা পেলেন ছয় ব্যতিক্রমী মানুষ

অনলাইন ডেস্ক দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া ছয়জন ব্যতিক্রমী মানুষকে...

পরীমণি ছাড়া সবার চেহারাই সার্জারি করা : তমা মির্জা

অনলাইন প্রতিবেদক বিনোদন অঙ্গনে চেহারার সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্লাস্টিক সার্জারি ও বিভিন্ন অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্ট এখন অনেকটাই সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে...

এআই ক্যামেরায় বদলাচ্ছে রাজধানীর ট্রাফিক চিত্র, গভীর রাতেও মানা হচ্ছে সিগন্যাল

অনলাইন ডেস্ক ঢাকার সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর...
সুফি সাগর সামস্ : ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে মহারাণী ভিক্টোরিয়া এক ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে ভারত উপ-মহাদেশের শাসনতান্ত্রিক রীতি-নীতির আমূল পরিবর্তন করেন। তিনি সাম্রাজ্য বিস্তারের পরিবর্তে শিক্ষা-সংস্কৃতি ও আদর্শ বিস্তারের নীতি গ্রহণ করেন। এই প্রেক্ষাপটে ইংরেজ সরকার মুসলমানদের জন্য জঙ্গিবাদী ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রথমে তারা কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসায় ইংরেজ প্রশাসক নিয়োগ প্রদান করেন। এ ইংরেজ প্রশাসকের মাধ্যমে টাকা-পয়সা, লোভ-লালসা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই মাদ্রাসার শিক্ষকদেরকে তাদের অনুগত করেন। তারপর সেখানে একজন ইংরেজ হেড মুদারেস নিয়োগ প্রদান করেন। এই হেড মুদারেসের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের অনুগত ওই সব শিক্ষকদের দ্বারা ইসলামের নামে জঙ্গিবাদী ইসলামী শিক্ষার সিলেবাস তৈরী করেন। এ সিলেবাস আলীয়া মাদ্রাসায় পাঠ্যসূচির অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ইসলামী শিক্ষার নামে ওই অপশিক্ষা শেষে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাথায় পাগড়ী পড়িয়ে সনদ বিতরণ করা হয়। সরকারীভাবে ইসলামী শিক্ষা চালু করার নামে জঙ্গিবাদী শিক্ষা চালু করা হয়। ওই অপশিক্ষা চালু করে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে দেয়। এ বিভ্রান্তি বর্তমানেও বিদ্যমান রয়েছে।
এভাবে মুসলমান সম্প্রদায়ের অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী ইসলামী শিক্ষা ধ্বংস করার পাশাপাশি থানাবান, দিল্লী, সাদেকপুর, পাটনা ও সীমান্ত কেন্দ্র থেকে যে সকল মুজাহিদ বিপ্লব পরিচালনা করেছিল, তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা করে দেশদ্রোহীতার অভিযোগে বিচার করা হয়। ওই বিচারে মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা আহমদ উল্লাহ অযীমাবাদী, মাওলানা আব্দুর রহিম সাদেকপুরী ও মাওলানা থানেশ্বরীসহ শত শত মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।
সারাদেশে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা বিকৃত লাশ বিভিন্ন হাট-বাজারে, রাজপথে, পার্কে, গাছের ডালে মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখা হয়। যার একটি পুরাণ ঢাকার ভিক্টোরিয়া বা বাহাদুর শাহ পার্ক। এখানে সিপাহি বিপ্লবীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা বিকৃত লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয় মাসের পর মাস। ঝুলিয়ে রাখা ওই লাশ কাক-পাখীতে ঠুকরিয়ে ঠুকরিয়ে খেয়েছিল। মাওলানা এনায়েত আহমদ কাকুরী, মাওলানা আব্দুল জলিল জোয়ী, মুফতি সদরুদ্দীন, মাওলানা ফয়েজ আহমদ বাদায়ূনী, আল্লামা ফজলে হক খয়রাবাদীসহ শত-সহস্র উলামায়ে কিরামদিগকে অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়ন করে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে নির্বাসন দেওয়া হয়।
মহারাণী ভিক্টোরিয়া শিক্ষা ও আদর্শ বিস্তারের নীতি গ্রহণের আওতায় মুসলিম মুজাহিদদের প্রতি দুটি নীতি অবলম্বন করেন। এক. মুসলমানদের শিক্ষা বিস্তারে জঙ্গিবাদী ইসলামী শিক্ষার বিস্তার করা, দুই. যে সকল মুসলমান এই নীতি অগ্রাহ্য করবে তাদেরকে গুপ্তঘাতক দ্বারা হত্যা করা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার কর্তৃক এ নীতি গ্রহণের পর মুসলিম মুজাহিদরা এক ভয়াঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখী হন। তাদের পক্ষে ওই দুই নীতির কোনটিই গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। আবার ব্রিটিশ বাহিনীর মুখোমুখী হওয়ার মতো শক্তিও তাদের ছিল না। কোনো উপায়ান্তর না দেখে প্রাণ বাঁচাতে তখন তারা ইংরেজদের প্রথম প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল।
এ সময় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে কারারুদ্ধ আল্লামা রশিদ আহমদ গাংগুহিকে ওই দুই নীতির বিষয়ে অবহিত করা হয়। তাকে প্রস্তাব করে বলা হয় যে, ভারতবর্ষে ইসলামী (কওমি) শিক্ষা বিস্তার করতে হবে। তিনি যদি তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেন তাহলে মুসলমানদের প্রতি যে গুপ্তহত্যা, দলন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে তা বন্ধ করা হবে এবং মুসলমানদের সকল প্রকার সহযোগীতা করা হবে। অন্যথায়, মুসলমানদের উপর সকল প্রকার যুলুম-অত্যাচার, গুপ্তহত্যা ও জুডিসিয়াল কিলিং অব্যাহত থাকবে এবং ভারত উপ-মহাদেশ থেকে মুসলমানদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে দেওয়া হবে।
এ রকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকারের ওই নীতি ও প্রস্তাবের বিষয়ে হযরত গাংগুহি নিজের বিবেকের সাথে নিজে যুদ্ধ করেন। নিজের মনের সাথে অনেক বোঝাপড়া করেন। কিন্তু তিনি কোনো সমাধানে আসতে পারেননি। তখন তার সম্মুখে দুটি পথ খোলা ছিল। এক. ইংরেজদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ভারতবর্ষ থেকে ইসলামের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে দেওয়া, দুই. ব্রিটিশের প্রস্তাবে রাজী হয়ে ইসলামের নামে জঙ্গিবাদী শিক্ষা চালু করা। এরপর ভবিষ্যতে ওই আকিদা পরিত্যাগ করে আবার মূল আকিদার অর্থাৎ অসাম্প্রদায়িক ইসলামী শিক্ষায় ফিরে যাওয়া। কারণ ইংরেজরা তো স্থায়ীভাবে ভারতবর্ষে টিকে থাকতে পারবে না। হযরত গাংগুহি তার ওই চিন্তার বিষয়ে আল্লামা কাসেম নানুতবীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছিলেন। তারপর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দেওবন্দ দারুল উলুম (কওমি) মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু তাদের প্রতিষ্ঠিত ওই দেওবন্দ মাদ্রাসা অদ্যাবধি ইসলামের মূল শিক্ষা ব্যবস্থায় ফিরে আসতে পারেনি।
মুসলিম মনীষীরা বলেন, ব্রিটিশ সরকারের সাথে আপোস করার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না। কুরবানী থেকেই কুদরতের সৃষ্টি হয়। মাওলানা রশিদ আহমদ গাংগুহি যদি ইসলামের জন্য নিজেকে কুরবানী দিতেন, তাহলে আল্লাহর কুদরতে ইসলাম জিন্দা হতো। যেভাবে ইসলাম জিন্দা হয়েছিল কারবালা প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা) এর কুরবানীর বিনিময়ে। ইমাম হুসাইনের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ইরানের জনগণ পৃথিবীতে ইসালামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রতিষ্ঠা করেছে। সুতরাং ইমাম হুসাইনের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে মাওলানা রশিদ আহমদ গাংগুহি ইসলামের জন্য নিজেকে কুরবানী করার সৌভাগ্যলাভ করতে পারতেন। তার কুরবানীর উসিলায় ভারতবর্ষে ইসলাম জিন্দা হতে পারতো। আর এটাই ছিল তার জন্য ইহকাল ও পরকালে নাজাতের মহা-অবলম্বন।
ইসলামের নামে জঙ্গিবাদী শিক্ষা বিস্তারে ব্রিটিশ সরকারের ওই প্রন্তাবে সম্মত হওয়ার কারণে কারারুদ্ধ হযরত রশিদ আহমদ গাংগুহিকে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের বদলে নি:শর্ত মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। অত:পর নাটকীয়ভাবে তাদেরকে দিয়ে আলীয়া মাদ্রাসার ওই ওয়াহাবি আকিদার শিক্ষার বিরুদ্ধে লোক দেখানো আন্দোলন করানো হয়েছিল। ওই লোক দেখানো আন্দোলনের পর ব্রিটিশরা তাদের মাধ্যমে ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে দেওবন্দ দারুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই মাদ্রাসায় একটু ভিন্ন আদলে অর্থাৎ হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহর সংস্কারকৃত শিক্ষার নামে ক্রমান্বয়ে ওয়াহাবি আকিদার শিক্ষার সিলেবাস চালু করা হয়। ওই শিক্ষা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। দেওবন্দ মাদ্রাসায় জঙ্গিবাদী শিক্ষার সিলেবাস অতি সতর্কতা ও গোপনীয়তার সাথে চালু করা হয়। বিষয়টি শুধুমাত্র কাসেম নানুতবী ও রশিদ আহমদ গাংগুহির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তারা দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর একই বছর মোজাহিরে উলুম সাহারানপুর মাদ্রাসা, শাহী মুরাদাবাদ ও মীরাঠ প্রভৃতি স্থানে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এসব মাদ্রাসায়ও দেওবন্দের শিক্ষার আদলে শিক্ষা-সংস্কৃতি চালু করা হয়। তখনো তারা শাহ ওয়ালী উল্লাহর সংস্কার কর্মসূচি এবং ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যিহাদ অব্যাহত রেখেছিলেন, তবে তা ছিল মৌখিক লোক দেখানো। অধিকাংশ ধর্মপ্রাণ মুসলমান তা অনুধাবন করতে পারেনি।
১৭৬০ খ্রিস্টাব্দের ঘটনা। ঢাকা আজিমপুর দায়রা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মুহম্মদ দায়েম (র)-কে আজিমপুর থেকে বিতারিত করার সংকল্প করেন সনাতন ধর্মাবলম্বী তান্ত্রিক সাধক রামদাস সাধু। তিনি সম্মোহনী ক্ষমতাবলে একটি হিংস্র বাঘের পিঠে সওয়ার হয়ে হাতে একটি বিষাক্ত সাপ নিয়ে সৈয়দ দায়েম (র) এর নিকট হাজির হন। এ সময় সূফি মুহম্মদ দায়েম (র) অজু করছিলেন। তিনি তখ ন মাটির দিকে তাকিয়ে মাটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হট মিট্টি, (এই মাটি সম্মুখে অগ্রসর হও)। এই দুটি বাক্য উচ্চারণের সাথে সাথে মাটির মধ্যে বিকট আওয়াজ হয়। মাটিতে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। মাটি সম্মুখে অগ্রসর হতে থাকে। এই অলৌকিক ঘটনায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাঘ এবং সাপ জঙ্গলে পলায়ন করেছিল। রামদাস সাধু অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। সৈয়দ মুহম্মদ দায়েম (র) এই ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতি ছিল সম্পূর্ণভাবে মানব জাতীয়তাবাদী অসাম্প্রদায়িক ইসলাম। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জনের এ ইসলামী শিক্ষাকে বা মাধ্যমকে ধ্বংস করে ইসলামের নামে চরমপন্থী জঙ্গিবাদী শিক্ষা-সংস্কৃতি চালু করা হয়।
ইসলামের আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জনের মাধ্যম বিলুপ্ত করে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের কী লাভ হয়েছে? এ শক্তি তো শুধুমাত্র মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট ছিল না। এ শক্তি সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্য অর্জিত হতো। মহান আল্লাহতালার স্বত্ত্বায় স্বত্ত্ববান অলিদের মধ্যে ধর্মান্ধতা বা জঙ্গি সন্ত্রাসী চিন্তা-চেতনা কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভের বিন্দুমাত্র আকাংখা ছিল না। কি কারণে ব্রিটিশ-আমেরিকা আত্মশক্তি বা আধ্যাত্মিক শক্তিলাভের ওই তরিকা ধ্বংস করে ধর্মের নামে জঙ্গীবাদী সন্ত্রাসী তরিকা চালু করেছিল এবং এখনো তা লালন-পালন করে আসছে তা বোধগম্য নয়। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার মুসলমানদের আযাদী আন্দোলন দমন এবং তাদের শাসন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তখন হয়তো ওই নীতি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে তো ওই পরিস্থিতি নেই। এখন তারা চাইলেই ওই ওয়াহাবি শিক্ষা-সংস্কৃতি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত করে দিতে পারেন। কিন্তু তারা জঙ্গীবাদী সন্ত্রাসবাদের উৎস বন্ধ না করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে চলেছেন।
আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের গ্লোবালাইজেশন কিংবা বিশ্বমানব জাতির আত্মবন্ধনের যুগে কোনো রাষ্ট্র কোনো রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন নায়। কোনো জাতি কোনো জাতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। কোনো ধর্ম কোনো ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। পবিত্র কুরআন মজিদের ভাষায় পৃথিবী হলো, মানব জাতির একটি প্রাকৃতিক বাসস্থান। বিশ্বমানব জাতি একটি পরিবার। এই পরিবারের শান্তি বজায় রাখার জন্য যে কোনো ব্যবস্থা গহণ করতে হবে। যে কোনো বিষয় যদি শান্তি ভঙ্গের কারণ হয়, তাহলে তা সকলে মিলে সুচিন্তিতভাবে সমাধান করতে হবে। কারো মস্তিস্কে যদি ক্যান্সার হয় তাহলে তা অপারেশন করে নিরাময় করতে হবে। অন্যথায় রুগি বাঁচানো যাবে না। কোনো ভাবেই কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শত্রুতা কিংবা হিংসা-প্রতিহিংসা পোষণ করা মঙ্গল জনক নয়। মনে রাখতে হবে দেহের যে কোনো স্থানে একটি ক্ষত সৃষ্টি হলে তার ব্যথা সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে যায়। ঘরের যে কোনো স্থানে আগুণ লেগে গেলে তা পুরো ঘরেই ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে পৃথিবীর যে কোনো দেশের যে কোনো সমস্যা শুধু ওই দেশের সমস্যা নয়, তা সমগ্র বিশ্বের সমস্যা, সমগ্র বিশ্বমানব জাতির সমস্যা, সমগ্র জীব-উদ্ভিদের সমস্যা।
সৌদি আরব মক্কা-মদিনা মুসলমানদের তীর্থস্থান। সৌদি আরবের কাছে সারাবিশ্বের নেতৃত্ব থাকার কথা। ইসলামের প্রথম যুগে সেখান থেকেই উদারচিন্তার আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্রের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মহানবীর উদারচিন্তার বহুত্ববাদী শাসনতন্ত্র পরিত্যাগ করে একনায়কতান্ত্রিক খিলাফতের শাসনতন্ত্র কায়েম করা হয়েছিল। বর্তমান সৌদি আরব যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত একটি রাষ্ট্র। পক্ষান্তরে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি-ধমকিকে উপেক্ষা করে পারমানবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়েছে। এর রহস্য কী? সৌদি আরব মহানবী (স) এর শাসনতন্ত্র পরিত্যাগ করে রাজতন্ত্র অবলম্বন করছে, যা ইসলামি শাসনতন্ত্র নয়, বরং আইয়ামে জাহেলিয়াতের শাসনতন্ত্র বললে ভুল হবে না। আর ইরান তথাকথিত খিলাফতের শাসনতন্ত্রকে আকিদাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যাণ করেছে।
দেওবন্দ মাদ্রাসার আলেম-উলামা, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও বিভিন্ন দরবার ভিত্তিক পীর-মাশ্বায়েখদের এসব বিষয়সমূহ নিয়ে বিশেষভাবে ভাবতে হবে। উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতের শাসনব্যবস্থা এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় যেসব কিতাব প্রণয়ন করা হয়েছে, যে সব কিতাবে মহানবী রসূলে করিম (স) ও তাঁর আহলে বাইত এবং তাঁর আউলিয়াদের সম্মানহানীকর বিষয়সমূহ রয়েছে তা ওই কিতাবের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে, বরং আলেম-উলামাদের জ্ঞান ও ইজমা-কিয়াস দ্বারা সংস্কার এবং তথাকথিত খিলাফতের শাসনব্যবস্থা পরিত্যাগ করে মহানবীর উদারচিন্তার বহুত্ববাদী শাসনতন্ত্র মদিনা সনদ এর আলোকে ইসলামি শাসনতন্ত্রের প্রচলন করতে হবে।
ইজমা-কিয়াসের মাধ্যমে যদি সকলে একমত হতে না পারেন তাহলে বিতর্কিত বিষয়বস্তুর উপর ইস্তেখারা নামাজ এর মাধ্যমে আল্লাহতালার সাহায্য নিয়ে সমাধানে আসতে হবে। পক্ষান্তরে বিভিন্ন পীর-মাশ্বায়েখদের দরবারে বিতর্কিত যেসব কর্মকান্ড প্রচলিত রয়েছে, সে সব বিষয়ে কুরআনের আলোকে সংস্কার করতে হবে। একপক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে গীবত না করে, বিদ্বেষ না ছড়িয়ে, উভয়ের বিরুদ্ধে উভয়ের ধর্মীয় অনুশীলনীয় যেসব বিষয়ে অভিযোগ কিংবা ভুল-ত্রুটি রয়েছে, তা লিপিবদ্ধ করে ক্রমান্বয়ে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করতে হবে। উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ জাতি অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে।
আসুন, আমরা এমন একটি পৃথিবীর কল্পনা করি যেখানে দারিদ্র্য থাকবে না। যেখানে বেকারত্ব থাকবে না। আমি বিশ্ববাসীকে আহ্বান করছি, আসুন, আমরা এমন একটি পৃথিবীর কল্পনা করি যেখানে ধর্মে ধর্মে দ্বন্দ্ব থাকবে না; যেখানে জাতিতে জাতিতে সংঘাত থাকবে ন;। যেখানে সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদ থাকবে না; যেখানে রাজনৈতিক সংঘর্ষ আর সহিংসতা থাকবে না; যেখানে মানুষের মধ্যে আত্মপ্রবঞ্চনা থাকবে না; থাকবে শুধু সমন্বয়, সম্প্রীতি আর ভালোবাসা।
৬২২ খ্রিস্টাব্দে ইয়াহুদি, খ্রিস্টান, মুসলিম, পৌত্তলিক, মুশরিক, দাস-দাসীসহ সকল জাতিধর্মের জনগোষ্ঠীর যে সমন্বয়, সম্প্রীতি আর ভালবাসার সমন্বিত জাতিরাষ্ট্র গঠন করেছিলেন, মহানবী রসুলে করিম (স)। বিশ্ববাসীকে মহানবী রসুলে করিম (স) এর রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে।
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।

সর্বশেষ সংবাদ

২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চাঁদপুর প্রতিনিধি চাঁদপুর প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে...

যে কারণে আল্লামা রশিদ আহমদ গাংগুহিকে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের বদলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল

সুফি সাগর সামস্ : ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে মহারাণী ভিক্টোরিয়া এক ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে ভারত উপ-মহাদেশের শাসনতান্ত্রিক রীতি-নীতির আমূল পরিবর্তন করেন। তিনি সাম্রাজ্য বিস্তারের পরিবর্তে শিক্ষা-সংস্কৃতি ও...

মঙ্গলে খননের সময় রোভারে আটকে গেল ১৩ কেজির পাথর, নতুন অভিজ্ঞতায় নাসা

অনলাইন ডেস্ক মঙ্গলে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে বিরল এক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-এর কিউরিওসিটি রোভার। খননের সময় একটি বড় পাথর রোভারের খননযন্ত্রে...

তিস্তার স্রোতে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ লালমনিরহাট

লালমনিরহাট প্রতিনিধি লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নে তিস্তা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতের টানে নিখোঁজ হওয়া দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে...

“দেহে ১৪ সেজদা” : চিশতিয়া দর্শনের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা নাকি প্রতীকী সাধনা?

চিশতিয়া তরিকার আধ্যাত্মিক সাধনায় বহু যুগ ধরে “দেহে ১৪ সেজদা” ধারণাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে আসছে। সুফি সাধকরা এটিকে কেবল বাহ্যিক নামাজের সেজদার মধ্যে সীমাবদ্ধ...

জনপ্রিয় সংবাদ