নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রংপুর জেলার আটটি উপজেলার পাকা সড়কের দু’ধারে তেলজাতীয় ফসল তিল চাষ কৃষি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। আগে অনাবাদি পড়ে থাকা রাস্তার পাশের সরু জমিতে এখন ব্যাপকভাবে তিল চাষ হচ্ছে। এতে কৃষকের পাশাপাশি স্থানীয় বেকার যুবকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। সড়কের দুই পাশে শোভাময় তিলের গাছ পথচারিদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
স্থানীয় কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় রাস্তার ধারে সবচেয়ে বেশি তিল চাষ হয়েছে। রাস্তা সংস্কার ও পাশের জমি ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ায় কৃষকেরা এখন আগ্রহ নিয়ে তিল আবাদে ঝুঁকছেন।
পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের খয়েরবাড়ি গ্রামের কৃষক আকবর আলী জানান, আগে রাস্তার পাশের জমিতে যে ফসলই লাগানো হতো, গরু–ছাগল এসে তা নষ্ট করে দিত। ফলে এই জমি থেকে কোনো লাভ হতো না। তিনি বলেন,
“তিল এমন একটি গাছ যা গরু-ছাগল খায় না। তাই দুই বছর ধরে মূল জমির পাশাপাশি রাস্তার ধারের জায়গায় তিল চাষ করছি। দুদিক থেকেই এখন ভালো আয় হচ্ছে। সামনে আরও বেশি করে তিল চাষ করার পরিকল্পনা আছে।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, তিলের চাষে খরচ কম, ঝুঁকি কম এবং বাজারে দাম তুলনামূলক ভালো। ফলে অল্প জমিতেও ভালো লাভ পাওয়া যায়। এতে আগে অবহেলিত রাস্তার ধারগুলো এখন কৃষির আওতায় আসছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, রাস্তার পাশের অনাবাদি জমিতে তিল চাষ বাড়লে স্থানীয় তেল–শস্য উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এতে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
রংপুর অঞ্চলে সড়কের ধারে তিল চাষ শুধু জমির সঠিক ব্যবহারই নয়, বেকার যুবকদেরও ছোট পরিসরে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।


