বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি সামান্য ঊর্ধ্বমুখী: খাদ্য ও অখাদ্য উভয় খাতেই চাপ বাড়বে

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

চলতি বছরের নভেম্বর মাসে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.২৯ শতাংশে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য বলছে, অক্টোবরের ৮.১৭ শতাংশ থেকে মূল্যস্ফীতির এ বৃদ্ধি খুব বড় না হলেও বাজারে স্থায়ী অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে আশার বিষয়—গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় এ বছর মূল্যস্ফীতি কম। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ১১.৩৮ শতাংশ; অর্থাৎ এক বছরে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্টের বেশি কমেছে।

খাদ্য ও অখাদ্য খাতের চিত্র

নভেম্বর মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭.৩৬ শতাংশ, যা অক্টোবরের ৭.০৮ শতাংশের তুলনায় কিছুটা বেশি। মৌসুমি পণ্যের দাম, আমদানি নির্ভর খাদ্যপণ্যে অস্থিরতা এবং পরিবহন ব্যয়ের চাপ এ খাতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯.০৮ শতাংশে নেমেছে; যদিও অক্টোবর মাসে এটি ছিল ৯.১৩ শতাংশ। পোশাক, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাসাভাড়া ও অন্যান্য পরিষেবা খাতে স্থায়ী মূল্যচাপ এখনও বিরাজমান।

গ্রাম ও শহরের মূল্যস্ফীতির পার্থক্য

বিবিএসের তথ্য বলছে, গ্রামীণ ও শহুরে অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

গ্রামীণ এলাকা

  • সাধারণ মূল্যস্ফীতি: ৮.২৬% (অক্টোবরে ৮.১৬%)

  • খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি: ৭.২৭%

  • অখাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি: ৯.২৪%

গ্রামে বিশেষত অখাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বাড়তি চাপে রেখেছে সাধারণ মানুষকে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নির্মাণসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার মূল্যবৃদ্ধি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

শহুরে এলাকা (উপাত্ত উল্লেখ না থাকায় সুনির্দিষ্ট হার যোগ করা হয়নি)

তথ্য অনুযায়ী শহরেও খাদ্য ও অখাদ্য উভয় খাতেই মূল্যচাপ রয়েছে, তবে গ্রামীণ অঞ্চলের তুলনায় শহরে অখাদ্যখাতের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কম থাকার সম্ভাবনা বেশি।

বিশ্লেষণ

নভেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির সামান্য উর্ধ্বগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—

  • বাজারে পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়,

  • আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার–টাকার বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের চাপে অভ্যন্তরীণ বাজারও নড়বড়ে,

  • স্থানীয় বাণিজ্যচক্রে অস্থিতিশীলতা ও পরিবহন ব্যয়ের ওঠানামা পণ্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তবে ইতিবাচক দিক হলো, আগের বছরের তুলনায় মূল্যস্ফীতি অনেকটাই কমে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতা ধরে রাখতে হলে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি, মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণ, আমদানি শুল্ক–ব্যবস্থার সমন্বয় এবং বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ