
পটুয়াখালী, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শীতের আগমনি বার্তায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে উপকূলীয় শুঁটকি পল্লীগুলো। হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করতেই সাগরপাড়ের বিশাল এলাকায় জমে উঠেছে কেমিক্যালমুক্ত ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে শুঁটকি উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ। সূর্যের প্রখর রোদকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ উপকূলজুড়ে সারি সারি বাঁশের তৈরি মাচায় বিছিয়ে রাখা হয়েছে নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। কোথাও আবার বাঁশের আড়ায় ঝুলিয়ে শুকানো হচ্ছে রূপচাঁদা, লইট্টা, ছুরি, পুঁটি, কাকড়া ও অন্যান্য মাছ। নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা কঠোর পরিশ্রমে মাছ উল্টেপাল্টে দিচ্ছেন, যাতে সমানভাবে রোদ পায়। মাচা, জাল, দড়ি ও অস্থায়ী ঘর মেরামত-প্রস্তুতের কাজও চলছে সমানতালে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, কুয়াকাটার শুঁটকি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাজারে জনপ্রিয়—এর মূল কারণ সম্পূর্ণ কেমিক্যালমুক্ত উৎপাদন প্রক্রিয়া। শীতের মৌসুমে তাপমাত্রা কম থাকায় মাছ দ্রুত শুকায় এবং স্বাদে থাকে স্বাভাবিকতা। ফলে এ সময়টিকে শুঁটকি মৌসুমের ‘সোনালী সময়’ হিসেবে মনে করা হয়।
প্রতিবছরের মতো এবারও উপকূলজুড়ে শুঁটকি পল্লীগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। জেলেরা ভোরে সাগর থেকে মাছ সংগ্রহ করেন, দিনের শুরুতেই শ্রমিকেরা মাছ ধোয়া, পরিষ্কার এবং মাচায় বিছানোর কাজ শুরু করেন। বিকেলে রোদ কমলে মাছগুলো প্যাকেটজাত বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখেন। একই সঙ্গে চলছে ট্রলার মেরামত, জাল প্রস্তুত, নতুন মাচা নির্মাণ এবং শুকনো মাছ সংরক্ষণের ঘর তৈরির কাজ।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চলতি মৌসুমে উৎপাদন ভালো হলে স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াকাটার কেমিক্যালমুক্ত শুঁটকির চাহিদা আরও বাড়বে। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা কুয়াকাটায় যোগাযোগ শুরু করেছেন।
উপকূলীয় কুয়াকাটায় সূর্যের রোদে প্রাকৃতিকভাবে শুঁটকি প্রস্তুতের এ ঐতিহ্য শুধু স্থানীয় অর্থনীতিকেই সমৃদ্ধ করছে না—হাজারো জেলে ও শ্রমিক পরিবারের জীবিকাকেও করছে গতিশীল। শীত পুরোপুরি জেঁকে ধরার আগেই তাই কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো শুঁটকি পল্লী।


