
ভাববেন না, কড়াইল লেক দখল হচ্ছে বলে ক্ষতিটা শুধু কড়াইলের। ভাববেন না, এটা “বস্তির সমস্যা”, “ওদের ব্যাপার”। এই ভ্রান্ত ধারণাই আপনাকে আগামী বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
কড়াইল লেক যদি মরে, ঢাকা শাস্তি পাবে—আপনিও।
আজ লেকের ওপর বাঁশ–টিনের ঘর উঠছে। কাল আপনার বাসার নিচে পানি উঠবে। আজ ভাসমান বসতিতে অবৈধ গ্যাস–বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। কাল বনানীর কোনো ভবনে আগুন লাগলে পানি পাবেন না। আজ রাষ্ট্র চোখ বন্ধ করে আছে। কাল সেই চোখ খোলার সুযোগও থাকবে না।
এটা কোনো পরিবেশবাদীর আবেগ নয়—এটা নগরবাসীর বেঁচে থাকার প্রশ্ন।
যে লেক বর্ষার পানি ধরে রাখার কথা ছিল, সেটি আজ ডোবায় পরিণত। ফল কী হবে?
১. তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে গুলশান–বনানী–মহাখালী অচল
২. বাসা থেকে বেরোতে না পারা
৩. অফিস, হাসপাতাল, স্কুলে পৌঁছাতে না পারা
৪. ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জলবাহিত রোগের বিস্ফোরণ
এই সব কিছুর দায় কিন্তু কড়াইলের ঘরহীন মানুষ নেবে না—দায়টা পড়বে আপনার ঘাড়েই।
সবচেয়ে ভয়াবহ শাস্তি আসবে আগুনের দিন।
কড়াইল লেক ছিল ফায়ার সার্ভিসের জন্য প্রাকৃতিক জলাধার। এই লেক ভরাট মানে—আগুন লাগলে আশপাশে পানি নেই। তখন বনানীর কোনো বহুতল ভবন পুড়লে, ফায়ার সার্ভিস দাঁড়িয়ে দেখবে। কারণ পানি নেই। তখন প্রশ্ন করবেন—“কেউ কিছু করেনি কেন?”
কিন্তু তখন প্রশ্ন করার সময় শেষ।
এখানে আর গরিব–ধনী গল্প খাটে না। কড়াইল লেক দখল দারিদ্র্যের সমাধান নয়, অপরাধের বাণিজ্য। চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ঘর তুলে ভাড়া খাচ্ছে, গ্যাস–বিদ্যুৎ বিল ছাড়াই। আর আপনি নিয়ম মেনে বিল দিচ্ছেন, কর দিচ্ছেন—যে রাষ্ট্র আপনার টাকায় চলে, সেই রাষ্ট্রই আপনার ভবিষ্যৎ ডুবিয়ে দিচ্ছে।
প্রশাসন বলছে—“নজরে ছিল না।”
এই কথার মানে একটাই—আপনার জীবনও তাদের নজরে নেই।
আজ যদি কড়াইল লেক দখল বন্ধ না হয়, তাহলে ধরে নিন—
-
আগামী বর্ষা হবে নরক
-
আগুন লাগলে বাঁচার নিশ্চয়তা নেই
-
ঢাকার অভিজাত এলাকা বলে কিছু থাকবে না
-
শহরটা ধীরে ধীরে অযোগ্য হয়ে উঠবে বসবাসের জন্য
এটা ভবিষ্যদ্বাণী নয়, এটা নিশ্চিত পরিণতি।
এখনো সময় আছে।
এখনো দখল উচ্ছেদ করা যায়।
এখনো চাঁদাবাজদের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ভাঙা যায়।
এখনো দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানো যায়।
কিন্তু যদি আজও চুপ থাকেন, কাল যখন পানি আপনার দরজায় উঠবে, আগুন আপনার জানালায় পৌঁছাবে—তখন কাউকে দোষ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
কারণ তখন সত্যটা পরিষ্কার হবে—
কড়াইল লেক শুধু দখল হয়নি, নাগরিকরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দিয়েছে।
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউশ্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


