মহানগর ডেস্ক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি—নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে রাজি নন নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, “পে-স্কেলের সুপারিশ আমাদের দেখতে হবে। না দেখে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।”
তিনি আরও বলেন, “মোট ব্যয় কত হবে, বর্তমান আর্থিক অবস্থায় কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব—এসব বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে। বাংলাদেশের ট্যাক্স রেভিনিউ ও ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে কখন, কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
কমিশনের সুপারিশ কী বলছে?
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—
-
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
-
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে।
-
সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ।
-
সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব।
তারেক রহমানের অঙ্গীকার
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমাদের দলীয় ইশতেহারে বলা হয়েছে—জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা হবে।”
কী বলছেন সরকারি চাকরিজীবীরা?
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দ্রুত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন বেতন কাঠামো দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বাস্তবায়নের আগে সার্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব, রাজস্ব সক্ষমতা এবং বাজেট ঘাটতির বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
সামনে কী?
অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন—সুপারিশ হাতে নিয়ে বিশ্লেষণ শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ফলে এখনই ৯ম পে-স্কেল কার্যকরের বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে। অন্যদিকে সরকার বলছে, আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


