অনলাইন প্রতিবেদক

ঢাকা: শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর বিচার দাবির আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে স্যাবোটেজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এসব উস্কানিদাতাকে চিহ্নিত করে ‘গণশত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর শাহবাগে হাদি হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “যখনই আমরা এদেশের জন্য ঐক্যবদ্ধ হই, তখনই কোনো না কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি স্যাবোটেজ ঘটিয়ে আমাদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ তৈরি করে। হাদি ভাইয়ের শাহাদাতের পর তার জন্য ইনসাফের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—কারা আজকের এই উস্কানির সঙ্গে জড়িত, আমরা তাদের চিহ্নিত করছি এবং গণশত্রু হিসেবে ঘোষণা করব।”
তিনি আরও বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলেই বিভিন্ন দেশের চর ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং পরিকল্পিতভাবে হামলা ও সহিংসতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারের লড়াইকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। “হাদি ভাইয়ের শাহাদাতের খবর পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই কীভাবে তার নামে টি-শার্ট ছাপিয়ে একটি গোষ্ঠী হামলা চালাতে বেরিয়ে গেল, তা অত্যন্ত সন্দেহজনক,” বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, যখন দেশের মানুষ জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন স্পটে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিচার, খুনিদের ফেরত আনা এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে, ঠিক তখনই বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
হাদি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের পর হাদি ভাই ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ও ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়েছেন কীভাবে গঠনতান্ত্রিকভাবে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। তিনি নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। তার লড়াই মানে গড়ার লড়াই—ভাঙার বিরুদ্ধে, আগুনের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়ানোর লড়াই।”
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আজকের ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, কাদের উস্কানিতে সাংবাদিকদের জীবন শঙ্কার মুখে পড়েছে—তা খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে কোনোভাবেই এসব স্যাবোটেজের কারণে আমাদের আন্দোলন থামবে না।”
সমাবেশ থেকে তিনি দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে খুতবা ও মোনাজাতে শরিফ ওসমান হাদির জন্য দোয়া করতে এবং জুমার পর সারা দেশে জুলাই আন্দোলনের সব স্পটে বিক্ষোভ ও সমাবেশ আয়োজন করতে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “হাদি ভাইয়ের জন্য আমাদের লড়াই, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই এবং হাদি ভাইয়ের খুনিদের ফেরত দেওয়ার দাবিতে এই আন্দোলন চলমান থাকবে। যতদিন পর্যন্ত খুনিদের এবং খুনি হাসিনাকে ফেরত দেওয়া না হবে, ততদিন এই আন্দোলন চলবে।”


