শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

সম্রাট আকবর ভিক্ষুকের মত সেলিম চিশতির পায়ের ওপর আছড়ে পড়েছিলেন!

পাঠক প্রিয়

সুফি সাগর সামস্

১৫৬৮ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর খালি পায়ে ভিক্ষুকের মত আগ্রা থেকে আজমীর গিয়েছিলেন। প্রায় ২০০ মাইল উত্তপ্ত মরুভূমি, কঙ্করময় পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে তিনি যখন আজমীর পৌঁছেন তখন তার পা ফুলে গিয়েছিল। ক্ষত-বিক্ষত হয়ে রক্ত ঝড়ছিল। মরুভূমির উত্তপ্ত লু হাওয়ায় তার শরীরের চামড়া পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছিল। তিনি যখন আজমীরে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র) এর মাজার শরীফে উপস্থিত হন তখন সত্যিকার অর্থে তাঁকে একজন ফকিরের মতোই দেখাচ্ছিল। তার পোশাক ছিড়ে গিয়েছিল। ময়লা ঘাম ও দুর্গন্ধে তিনি একাকার হয়ে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গী সাথী শত শত আমীর-ওমরা এবং হাজার হাজার সৈন্য ভিক্ষুকের মত তার সঙ্গী হয়েছিল।

এ সময় মাজারের খাদেম ছিলেন হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র) এর নাতি হযরত সেলিম চিশতি (র)। যে দেহে বইছিল চেঙ্গিস খাঁ, তৈমুর লং এবং বাবরের রক্ত। যে তলোয়ার হিন্দুস্তানকে পদানত করে রেখেছিল, সেই তলোয়ারের মালিক সম্রাট আকবর সত্যিকার ভিক্ষুকের মত হযরত সেলিম চিশতি (র) এর পায়ের ওপর আছড়ে পড়েছিলেন। উদ্দেশ্য মহান আল্লাহর কাছে সন্তান কামনা। সন্তান প্রাপ্তির সুসংবাদ উচ্চারণ না করা পর্যন্ত সম্রাট আকবর সেলিম চিশতি (র) এর পা ছাড়েননি। তিনি যখন জাহাঙ্গীরের জন্মের সুসংবাদের আশ্বাস প্রদান করেন তখন সম্রাট আকবর ওঠে দাঁড়ান। তখনও সম্রাটের শরীর কাঁপছিল। চোখে তখনো অশ্রুধারা বইছিল। অশ্রুচোখেই সম্রাট পুনরায় খালি পায়ে ভিক্ষুকের মতো রাজধানীর পথে রওয়ানা দিয়েছিলেন।
একইভাবে ২০০ মাইল মরুপথ অতিক্রম করে তিনি যখন রাজপ্রাসাদে ফিরলেন তখন কেউ তাকে চিনতে পারছিল না। অত:পর ১৫৬৯ খ্রিস্টাব্দের ২০ সেপ্টেম্বর শাহজাদা নূরুদ্দিন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর জন্মগ্রহণ করেন। সেলিম চিশতির দু’য়ার-বরকতেই সম্রাট জাহাঙ্গীর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এ জন্য সম্রাট আকবর জাহাঙ্গীরের ডাক নাম রেখেছিলেন সেলিম।

সুতরাং মহানবী (স) এর পরিবারের ১০তম পুরুষ হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশ্তি (র)-কে নিয়ে বিশেষভাবে ভাবতে হবে। ভারতবর্ষের আলেম-উলামাদেরকে তাঁকে বিশেষভাবে চিনতে হবে। তাঁর তরিকা সম্পর্কে জানতে হবে। তিনি ছিলেন চিশতিয়া তরিকার ইমাম। চিশতিয়া তরিকা থেকেই “সাবরিয়া” তরিকা সৃষ্টি হয়েছে। সাবরিয়া তরিকার ইমাম হলেন সৈয়দ আলাউদ্দিন আল সাবের কালিয়ার (র)। বাংলাদেশে বরিশাল জেলার চরমোনাই দরবার শরীফ সাবরিয়া তরিকা অবলম্বনে প্রতিষ্ঠিত। হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশ্তি (র) কিভাবে ভারতবর্ষে কি উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন তা বিশেষভাবে জানতে হবে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইহুদি, শিখসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে কামার-কুমার মেথর-মুচিসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর দরবারে আসেন এবং তাদের মনের বাসনা পূর্ণ করেন।

লেখক :
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি ও
মানবিক নতুন বিশ্বব্যবস্থার রূপকার।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ