
ভারতের দিল্লি এশিয়ার সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। এর পরে অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তানের লাহোর এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে শহরগুলোতে।
শনিবার (৮ নভেম্বর)) সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।
তালিকার শীর্ষে অবস্থান করা দিল্লির বায়ুর মানের স্কোর ৬৪৩ অর্থাৎ সেখানকার বায়ুর মান বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। একই অবস্থা লাহোরের। সেখানকার বায়ুর মানের স্কোর ৩৪৬ অর্থাৎ বিপজ্জনক অবস্থা সেখানেও।
সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বায়ুদূষণ সূচকে দেখা গেছে, ভারতের রাজধানী দিল্লি দূষণের মাত্রায় শীর্ষে রয়েছে। শহরটিতে ঘন কুয়াশা, যানবাহনের ধোঁয়া ও শিল্প কারখানার ধূলিকণা মিলিত হয়ে বাতাসকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। এ শহরের বায়ুদূষণের মূল কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে যানবাহন বৃদ্ধি, জ্বালানি উৎপাদন ও শিল্পকলা কারখানার ধোঁয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে কুয়াশা এবং ধূলিকণার সংমিশ্রণ পরিস্থিতি আরও মারাত্মক করে তোলে।
তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। রাজধানী শহরের বায়ুদূষণের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ থেকে নির্গত ধূলি ও শিল্পকেন্দ্রের বায়ু দূষণ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগে আক্রান্তদের জন্য পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলেছে, এ ধরনের দূষণ দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস, হৃদয় এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা শহর প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে এবং দূষণ কমানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছেন।
শহরগুলোতে গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পল্লী ও শহরের মধ্যে সবুজাভ স্থান বৃদ্ধি, শিল্প কারখানার ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব।


