মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক মা ও তার ৮ মাসের শিশু কন্যা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় একটি প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে যায়।
নিহতরা হলেন—ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার বাসিন্দা জিসান কবীর পিপুর স্ত্রী সাদিয়া কবীর (৩২) এবং তাদের ৮ মাসের শিশু কন্যা তাজরি কবীর প্রিয়ম। পরিবারটি ঢাকার মিরপুরের শাহআলী থানা এলাকায় বসবাস করত বলে জানা গেছে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উত্তরবঙ্গ থেকে যাত্রী নিয়ে একটি প্রাইভেটকার ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে গোড়াই এলাকায় মহাসড়কের পাশে গাড়িটি সাময়িকভাবে দাঁড়ালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক এসে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়েমুচড়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই মা ও শিশুর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালকসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যান চলাচলে বিঘ্ন
দুর্ঘটনার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
পুলিশের বক্তব্য
গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার আলম জানান,
“আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
ফের প্রশ্নের মুখে মহাসড়কের নিরাপত্তা
এই দুর্ঘটনা আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের নিরাপত্তা ও মহাসড়কের পাশে অনিরাপদভাবে গাড়ি দাঁড় করানোর ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রায়ই এই সড়কে দ্রুতগতির ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অনিয়ন্ত্রিত থামা ও গতিনিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি না বাড়ালে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হবে।


