
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করার লড়াইয়ে ইতিহাস গড়েছিল ৫ আগস্টের আন্দোলন। সেদিন রাজধানীসহ সারাদেশে লাখো জনতা রাস্তায় নেমে আসে, দাবি ছিল একটাই—হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ। সেই বিক্ষোভে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সম্মুখ সারির এক তরুণ—ইয়াসিন সরকার বাবু।
অকুতোভয় জুলাই যোদ্ধা বাবু পহেলা নভেম্বর আবার ভর্তি হয়েছেন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এ। গত ৬ নভেম্বর তার আবার একটি অস্ত্রোপাচার করা হয়েছে। তিনি এখন হাসপাতালে মৃত্যুরসঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তার অস্ত্রোপাচারের সংবাদ শুনে তাকে দেখতে ছুটে যান, যুবদল নেতা ইশতিয়াক মাহমুদ মানিক।
যাত্রাবাড়ি থানার সামনে বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে সাতটি গুলি লাগে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিন মাসের মতো মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তিনি বেঁচে ফিরেছিলেন।
ইয়াসিন বর্তমানে আংশিক সুস্থ হলেও এখনো হাঁটতে কষ্ট হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীরে থাকা কিছু গুলি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা গেলেও কয়েকটি এখনো রয়ে গেছে, যা তাকে স্থায়ীভাবে শারীরিক যন্ত্রণায় রাখছে।
জুলাই যোদ্ধা ইয়াসিন সরকার বাবু বলেন,
“আমরা রক্ত দিয়েছি হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে। আমি গুলিবিদ্ধ হয়েছি, কিন্তু ভয় পাইনি। দেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিতে হলেও প্রস্তুত।”
ইয়াসিনের মতো জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের অসংখ্য তরুণ ৫ আগস্টের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন যারা বিশ্বাস করেন, দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।
স্থানীয়রা জানান, ইয়াসিন ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের একনিষ্ঠ কর্মী। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর থেকে তার পরিবার নানা হয়রানির মুখে পড়েছে। তবুও পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা গর্বিত—কারণ তাদের ছেলে দেশের জন্য রক্ত দিয়েছে।
হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই লড়াইয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধা ইয়াসিন এখন নতুন প্রজন্মের কাছে প্রতিরোধ ও সাহসের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।


