
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ মঙ্গলবার দুপুরে একটি মৌখিক বেতার বার্তার মাধ্যমে থানা ও টহল পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন—সন্ত্রাসী বা সন্ত্রাসী সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেখা মাত্র সাবমেশিনগান (এসএমজি) থেকে ‘ব্রাশফায়ার’ করা হবে। একই বার্তায় তিনি শটগান ও চায়না রাইফেল ব্যবহারের নির্দেশ বাতিল করেছেন।
চট্টগ্রাম, ১১ নভেম্বর — চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজের বেতার বার্তায় থানায় ও টহল দলে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এক সতর্ক ও কার্যনির্দেশমূলক ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র এসএমজি থেকে ব্রাশফায়ার করবেন; শটগান নয়, চায়না রাইফেলও বাদ থাকবে। এখন থেকে এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কমিশনারের এই নির্দেশটি অপ্রকাশ্য নিরাপত্তা বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে এবং তা সরাসরি মোবাইল বেতার চ্যানেলের মাধ্যমে মৌখিকভাবে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, সম্প্রতি সন্ত্রাসী হুমকি ও সংঘটিত সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন, এ ভাবনায় মাঠ পর্যায়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
পুলিশ ও সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ‘ব্রাশফায়ার’ একটি অস্থিরিক আগুনভাগ পন্থা (warning or suppressive fire) হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হওয়া সম্ভব। তবে এ ধরণের নির্দেশনার প্রয়োগে যেকোনো সময় নাগরিক নিরাপত্তা, গোলযোগ-প্রবণ এলাকায় সাধারণ মানুষের ঝুঁকি এবং আইনি দায়–দায়িত্ব বিষয়ক প্রশ্নও উঠতে পারে।
কমিশনারের বার্তা সরাসরি মোবাইলে প্রেরিত মৌখিক বার্তার মাধ্যমে জানানো হওয়ায় কেন লেখা নির্দেশনা বা SOP (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) জারি করা হয়নি—এ সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিক একটি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় থানাগুলোকে নির্দেশযোগ্যতা বাস্তবায়ন ও তাদের মতামত জানাতে বলা হয়েছে বলে পুলিশ গোত্রের কিচ্ছু সূত্র জানায়।
সরকারি নিরাপত্তা আধিকারিকরা দ্রুত এবং সহনশীল প্রতিক্রিয়া বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কমিউনিটি ধারণা প্রকাশ করেছেন যে—যদি এই নীতিমালা প্রয়োগ করা হয়, তবে পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং এ থেকে সম্ভাব্য নিরীহ ব্যর্থতা কিভাবে এড়ানো হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম সিটি পুলিশ কমিশনারের এই নির্দেশ নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে মাঠে তৎপরতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে হলেও এর প্রয়োগ ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। অপরাধ প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি মানবাধিকার ও আইনগত বাধ্যবাধকতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যদি আরও আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা, SOP এবং ঘটনার পরে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আপত্তিকর ঘটনার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।


