বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬

রমজানে মাদারীপুরে ফলের বাজারে অস্থিরতা: চাহিদা বাড়ায় দাম ঊর্ধ্বমুখী

পাঠক প্রিয়

মাদারিপুর প্রতিনিধি

রমজানকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর জেলার ফলের বাজারে বেড়েছে মৌসুমি ফলের চাহিদা। সেই সঙ্গে পাইকারি পর্যায়েই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে দাম। এতে আড়ত থেকে বেশি দামে ফল কিনলেও খুচরা বাজারে আশানুরূপ দামে বিক্রি করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পাইকাররা।

মোস্তফাপুর আড়ত: দক্ষিণাঞ্চলের বড় পাইকারি কেন্দ্র

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা মোস্তফাপুর ফলের আড়ত জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি ফলের বাজার হিসেবে পরিচিত। যশোর, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল ও চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে ফল কিনতে আসেন।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সরেজমিনে দেখা যায়, আড়তে—

  • প্রতিপিস তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়

  • আনারস ৩৫ থেকে ৫৫ টাকা

  • ফুটি ৪০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি

  • পেয়ারা, আপেল, খেজুর, আঙুর, মালটা ও কমলা পাইকারিতে ৩০-৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে

রমজানের শুরুতেই এমন দামবৃদ্ধিতে পাইকারদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।

‘বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি’

মো. এলেম নামে এক পাইকার বলেন, “এক সপ্তাহ আগেও আনারসের পিস ছিল ১৮-২৫ টাকা। এখন একলাফে ৫০ টাকার ওপরে। বেশি দামে কিনলেও বাজারে সে দামে বিক্রি করতে পারছি না।”

সামাদ শেখ নামে আরেক পাইকার জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে এই আড়তে আসছেন। তার ভাষায়, “রমজান এলেই ফলের দাম বাড়ে। আড়তদাররা সরবরাহ কম থাকার কথা বলেন। কিন্তু আমরা দূরদূরান্ত থেকে এসে বিপদে পড়ি।”

পাইকারদের অভিযোগ, কিছু আড়তদার সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ছে।

আড়তদারদের দাবি: সরবরাহ কম, চাহিদা বেশি

অন্যদিকে আড়তদারদের দাবি, উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতির কারণেই দাম কিছুটা বেড়েছে। মোস্তফাপুর আড়তের আড়তদার জসিম উদ্দিন বলেন, “ফল কম আসছে, কিন্তু চাহিদা অনেক বেশি। তাই দাম বেড়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।”

সালাউদ্দিন মোল্লা নামে আরেক আড়তদার বলেন, “রমজানে চাহিদা থাকে বেশি, কিন্তু আমদানি নেই। চাষিরা পর্যাপ্ত ফল দিতে পারছে না। ফলে দাম বাড়া অস্বাভাবিক নয়।”

প্রশাসনের নজরদারি

এ বিষয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক, জানান—রমজান উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। কেউ অতিরিক্ত মুনাফা বা কারসাজি করলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভোক্তাদের ওপর চাপ

পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। রমজানে ইফতারে ফলের চাহিদা বেশি থাকায় সাধারণ ভোক্তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে রোজার শেষ দিকে বাজার আরও অস্থির হতে পারে।

রমজান ঘিরে ফলের বাজারে এই অস্থিরতা সাময়িক নাকি দীর্ঘস্থায়ী—তা নির্ভর করছে সরবরাহ পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক নজরদারির কার্যকারিতার ওপর। তবে আপাতত চাহিদা ও দামের এই ভারসাম্যহীনতায় চাপে আছেন পাইকার ও ভোক্তা—দুই পক্ষই।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ