বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬

নির্বাচনের আগে বড় চুক্তি ও প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক, চাপের মুখে নতুন সরকার

পাঠক প্রিয়

উদ্বোধনী ম্যাচে হোঁচট পর্তুগালের, রোনালদোকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

স্পোর্টস ডেস্ক ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রত্যাশিত সূচনা করতে পারেনি পর্তুগাল। আফ্রিকার প্রতিনিধি ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র...

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: ১২৭তম দফায় সময় পেল তদন্ত সংস্থা

বাসস  ঢাকা, ১৮ জুন: বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী...

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমানের দুঃসাহসিক হামলা ইরানি পাইলটদের

অনলাইন ডেস্ক কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের বিমান বাহিনীর দুঃসাহসিক হামলার বিস্তারিত বর্ণনা প্রকাশ করেছেন অভিযানে অংশ নেওয়া...

কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাবে ইরান, দাবি পেজেশকিয়ানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে কাতারের হেফাজতে থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত...

বাংলাদেশ-ভারত ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে শিল্পখাত আরও শক্তিশালী হবে: বিকেএমই সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, ১৮ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে উভয় দেশের শিল্পখাত আরও শক্তিশালী...

ইব্রাহিম খলিল বাদল

জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি। এমন সময় অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় ঘনিয়ে এলেও বড় অঙ্কের চুক্তি, কেনাকাটা ও নতুন প্রকল্প অনুমোদনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নির্বাচনের ঠিক আগে সরকার একাধিক দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর বড় দায় তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

তফসিলের পরও মেগা প্রকল্প অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সাধারণত সরকারের রুটিন কাজ করার কথা থাকলেও এবার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের আগমুহূর্তে বড় ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদন, আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় সিদ্ধান্তের কারণে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও নীতিগত স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ও গোপন শর্ত নিয়ে বিতর্ক

নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নন-ডিসক্লোজার চুক্তির কারণে শর্তাবলি প্রকাশ না হওয়ায় ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের ‘গোপন ট্যারিফ চুক্তি’ স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব চুক্তি সম্পন্ন করা হচ্ছে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারকে চাপমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে।

বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনা: বড় আর্থিক দায়ের আশঙ্কা

সরকার বোয়িং থেকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিভিন্ন সূত্র মতে, ১৪ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনায় ৩০–৩৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের আগে নেওয়া হলে নতুন সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর ও আন্তর্জাতিক প্রকল্প: বাড়ছে সমালোচনা

বন্দর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তিও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না থাকায় সমালোচনা বাড়ছে।

একাধিক বিশ্লেষক মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল কাজ ছিল নির্বাচন আয়োজন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। কিন্তু শেষ সময়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ‘নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ’ হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা

অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় প্রকল্প, আন্তর্জাতিক চুক্তি, সম্ভাব্য পে-স্কেল ব্যয় এবং বৈদেশিক ঋণের চাপ—সব মিলিয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখে পড়তে পারে।

তাদের মতে, নির্বাচনের আগে নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ সরকারের নীতিনির্ধারণের সুযোগ সীমিত করতে পারে।

সরকারের অবস্থান

সরকারের দাবি, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম থামিয়ে রাখলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই জরুরি প্রকল্প ও কৌশলগত চুক্তিগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে।

আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর নির্বাচিত সরকারের কাছে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে সরকার।

নির্বাচনের আগে বড় প্রকল্প, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও উচ্চ ব্যয়ের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে এসব সিদ্ধান্তের আর্থিক ও নীতিগত প্রভাবই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ

জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তায় আইটিএফসির দ্বারস্থ বাংলাদেশ, ২.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণের পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারও আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি)-এর সহায়তার দিকে ঝুঁকছে...

ডিএমপিতে দুই ডিসির রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) দুই উপ-পুলিশ কমিশনারকে (ডিসি) রদবদল করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অ্যান্ড স্পেশাল কোর্ট সিকিউরিটি বিভাগ এবং সিটি-রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট...

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার : জিয়াউদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ দেওয়ার...

কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাবে ইরান, দাবি পেজেশকিয়ানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে কাতারের হেফাজতে থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আসবে বলে দাবি করেছেন দেশটির...

‘ফুটবলের জন্য অযোগ্য’ থেকে বিশ্বকাপের নায়ক, উন্দাভের অবিশ্বাস্য উত্থান

স্পোর্টস ডেস্ক একসময় যাকে ফুটবলের জন্য ‘অযোগ্য’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই ডেনিস উন্দাভ এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত নাম। জীবনের নানা প্রতিকূলতা, আর্থিক সংকট ও...

জনপ্রিয় সংবাদ