সুফি সাগর সামস্

সলামি বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস পবিত্র শাবানকে আত্মশুদ্ধি, আমল বৃদ্ধি ও রমজানের প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আলেমরা। কোরআন-হাদিস ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমলের আলোকে শাবান মাসে নফল ইবাদত, বিশেষ করে রোজা ও ইস্তেগফারের গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরছেন গবেষক ও খতিবরা।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, শাবান এমন এক মাস যাকে মানুষ অবহেলা করে, অথচ এ মাসেই বান্দার বার্ষিক আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। হজরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.)-এর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তিনি চান তাঁর আমল রোজাদার অবস্থায় পেশ হোক। এ কারণেই শাবান মাসে তিনি অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি নফল রোজা রাখতেন।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে শাবানের মতো বেশি রোজা রাখতে দেখেননি। ইমাম নববী (রহ.) ব্যাখ্যা করেন, এর অর্থ গোটা মাস ফরজের মতো রোজা নয়; বরং অধিকাংশ দিন নফল রোজা পালন।
আলেমদের মতে, শাবান হলো রমজানের প্রাক-প্রশিক্ষণের মাস। ইমাম আবু বকর আল-বালখির ভাষায়, রজব বীজ বপনের, শাবান পরিচর্যার আর রমজান ফসল কাটার মাস। এ সময়ে কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ ও দীর্ঘ সিজদার মাধ্যমে অন্তরকে রমজানের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
শাবান মাসের মধ্যরাত—লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান—সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে আল্লাহ ক্ষমা করেন। তবে বিশেষজ্ঞ আলেমরা স্পষ্ট করেছেন, এ রাতে নির্দিষ্ট কোনো নামাজ বা উৎসব প্রমাণিত নয়; ব্যক্তিগতভাবে তওবা, ইস্তেগফার ও নফল ইবাদত করাই সুন্নাহসম্মত।
সামাজিক দিক থেকেও শাবান মাস বহন করে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। বিদ্বেষ পরিত্যাগ, সম্পর্ক পুনঃস্থাপন, ক্ষমাশীলতা ও নম্রতা অর্জনের ওপর জোর দিয়েছেন খতিবরা। কারণ হিংসাবিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হয়—এটাই এ মাসের বড় সতর্কবার্তা।
আলেমদের অভিমত, শাবান মাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে রমজান হবে আরও অর্থবহ ও কবুলিয়তের সহায়ক। তাই এ মাসে নীরব সাধনা, আত্মসমালোচনা ও আমল বৃদ্ধির মাধ্যমে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে মুসলিম উম্মাহর প্রতি।
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


