সৈয়দ গোলাম মোর্শেদ

একদা কোন এক ব্যক্তি হুজুর গাউছে পাকের কাছে ফকির কাকে বলে জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিলেন,
ফকির এর আরবী বর্ণ
১। ‘ফে’ দ্বারা বুঝায় নিজেকে আল্লাহর ইচ্ছার উপর ফানা বা বিলীন করে দাও।
২। ‘ক্বাফ’ দ্বারা বুঝায় তোমার অন্তরকে আল্লাহর প্রেমে পরিশুদ্ধ কর, তাঁর রেজামন্দির কাজে মগ্ন থাক।
৩। ‘ইয়ে’ দ্বারা বুঝায় আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে তাঁর নিকট চাও।
৪। ‘রে’ দ্বারা বুঝায় আন্তরিক নম্রতা, কোমল চিত্ততা গ্রহণ কর।
অর্থাৎ যিনি নফছানিয়ত খায়েশ ছেড়ে কেবল আল্লাহমুখি হয়েছেন এবং ফানা ফিশ শায়েখ, ফানাফির রাসুল, ফানাফিল্লাহর মকামে লাভ করেছেন তিনিই ফকির।
ফকিরি সম্পর্কে রাসুল এ পাক ( দরুদ) বলেন, ফকিরী আমার ও আমার আল থেকে। অর্থাৎ সকল ফকিরী আসে রাসুল এ পাক (দরুদ) হতে ও আহলে বাইত হতে।
ফকিরী দরবেশী আল্লাহর নিয়ামতের অন্যতম ভান্ডার। ফকির ব্যক্তি চুপচাপ থাকে, কিন্তু তাঁর কলব সদা আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকে।তাঁর কলব ঈমানী নূরে পূর্ণ থাকে। এ ধরণের ফকির সম্পর্কে রাসুল এ পাক (দরুদ) বলেন , এমন অনেক লোক আছে যাদের মাথার চুল এলোমেলো, যারা মানুষের দুয়ার হতে বিতাড়িত। যদি তারা আল্লাহর নামে শপথ করে কিছু বলে ফেলে তা কবুল হয়ে যায় (মুসলিম শরীফ)। তাঁরা একমুহুর্তও আল্লাহর জিকির হতে গাফেল হন না। মজ্জুব পর্যায়ের ওলীআল্লাহগণ এমনই হয়ে থাকেন।।


