দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১৪ জন বাংলা ভাষাভাষি ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির কড়া নজরদারি, তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ও দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ রোধ করা সম্ভব হয়।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার আশ্রয়ণ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠান বিজিবি-৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।
কারা ছিল পুশইনের তালিকায়
পুশইনের শিকার হওয়া ১৪ জনের মধ্যে ছিলেন ৬ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু। তারা সবাই একই বংশ ও পরিবারের সদস্য। বয়স ২ বছর থেকে শুরু করে ৯০ বছর পর্যন্ত। তালিকায় ছিলেন—
শেখ জব্বার (৭২), তার চার ছেলে শেখ হাকিম (৪৩), শেখ ওকিল (৪০), শেখ রাজা (৩২), শেখ বান্টি (৩০); তাদের স্ত্রী শাবেরা বিবি, শমশেরি বিবি, মাইনু বিবি ও আলকনি বিবি; আরও ছিলেন গুলশান বিবি (৯০) এবং চার শিশু—শাকিলা খাতুন, নাছরিন আক্তার, শেখ তাওহিদ ও আড়াই বছরের শেখ রুহিত।
সীমান্তে উত্তেজনা ও পতাকা বৈঠক
বিজিবির বাধার মুখে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিএসএফের আহ্বানে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ভারতের চাইডোবা মাঠে (মেইন পিলার ১৫৪/০৭ এস সংলগ্ন) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিজিবির পক্ষে মহিষকুন্ডি বিওপির সুবেদার মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের দল এবং বিএসএফের পক্ষে নিউ উদয় কোম্পানি কমান্ডার এসি অনিল কুমারের নেতৃত্বে ৬ সদস্য অংশ নেন।
বিজিবির অবস্থান
বৈঠকে বিজিবি স্পষ্টভাবে জানায়, বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিক পুশইন আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত নীতির পরিপন্থী। পরিচয় যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টরা যে ভারতীয় নাগরিক—তা প্রমাণিত হলে বিজিবির অনুরোধে বিএসএফ তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফেরত নিতে বাধ্য হয়।
বিজিবির বক্তব্য
বিজিবি-৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন,
“সীমান্তে কোনো ধরনের পুশইনের চেষ্টা হলে আমাদের টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ করে। এ ঘটনাতেও পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধান করে ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।”
সীমান্তে পুশইন দীর্ঘদিনের একটি সংবেদনশীল ইস্যু। বিশেষ করে নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করানোর চেষ্টা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিজিবির এই দ্রুত ও দৃঢ় অবস্থান সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


