নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার : বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি) দেশের বৃহত্তম পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। ১৯৫৩ সাল থেকে যৌন, প্রজনন, স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে দেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করে আসছে। দেশের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সংস্থাটি দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য যৌন ও প্রজনন অধিকারের পক্ষে কাজ করে; যাতে মানুষ রোগ, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ থেকে নিরাপদ থাকে। এছাড়া এইচআইভি, এইডস ও এসটিআই নির্মূল এবং নারী-পুরুষের সামগ্রিক প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে।
অদ্য ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুই দিনের জাতীয় কাউন্সিলদের সমন্বয়ে এফপিএবি’র বার্ষিক সাধারণ সভা নয়াপল্টনস্থ সংস্থার কেন্দ্রীয় কর্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী পাঠ, ২০২৫ সালের কার্যক্রম এবং আর্থিক প্রতিবেদনসহ ৯টি আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে একই দিনে দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমানকে বরণ করার জন্য সমগ্র জাতি অপেক্ষমান ছিল। বিএনপি সমর্থিত এফপিএবি’র ২১টি জেলার সদস্যরা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ হারুণ-অর-রশিদকে অনুরোধ করেছিলেন, বার্ষিক সভাটি ২৪-২৫ ডিসেম্বরের পরিবর্তে অন্য যে-কোনো দুটি তারিখ নির্ধারণ করতে। কিন্তু এই অনুরোধ উপেক্ষা করেই অদ্য ২৫ ডিসেম্বর বার্ষিক সভা সমাপ্ত হয়েছে।

এ সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এফপিএবি’র একজন সদস্য বলেন, মূলতঃ বার্ষিক সভার অন্তরালে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের গুপ্ত পরামর্শ করার জন্য ২৫ ডিসেম্বর দিনটি ধার্য্য করা হয়েছে। কারণ, এদিন সমগ্র দেশবাসীর নজর থাকবে তারেক রহমানের আগমনের দিকে। নিরাপদে গুপ্ত পরামর্শের জন্যই তারেক রহমানের অগমনের দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে সভা করার নামে। তাদের উদ্ধেশ্য বার্ষিক সভার আড়ালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দেশব্যাপী হত্যা, খুন, সংঘাত-সংঘর্ষ, আগুন সন্ত্রাস এবং মব সন্ত্রাসের মাধমে দেশকে অস্থিরতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া। জুলুম অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধি করে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করা। পাশাপশি তারেক রহমানের আগমন অনুষ্ঠানকে স্যাবোটাজ করা। যেন বিএনপির সমর্থকরা তারেক রহমানের আগমন অনুষ্ঠানে যোগদান করতে না পারে।
এফপিএবি’র এই সদস্য আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসররা বিএনপির সমর্থকদের অনুপস্থিতিতে নিরাপদে এফপিএবি-তে গুপ্ত আলোচনা করেছে। ভারপ্রাপ্ত হারুন-অর-রশিদ হলো, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর এবং বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয় হলো, বর্তমানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঘোষিত গুপ্ত অফিস। এই দেশবিরোধী অপতৎপরতায় অন্তরাল থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এমপি মেহের আফরোজ চুমকি, সাবেক তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ও এফএিবির’র সভাপতি মসয়ূদ মান্নান এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুণ-অর-রশিদ। এফপিএবি’র কেন্দ্রীয় অফিসের কাছেই সম্প্রতি শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকান্ডের সঙ্গেও হারুণ-অর-রশিদের গোপন যোগসাজশ রয়েছে বলে তিনি ধারণা করেন।


