শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামে মাকে মারধরের অভিযোগে খলিল (২৮) নামের এক যুবককে প্রতিবেশীরা ধরে এনে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রেখে ‘শাস্তি’ দেয়। খলিল ওই গ্রামের নূর উদ্দিন ও খোদেজা খাতুনের ছেলে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য: খোদেজা খাতুন জানান, তাঁর ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং গাঁজা সেবন করে। ঘটনার দিন সকালে খলিল তাঁর কাছে টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে খলিল ইট নিক্ষেপ করলে তাঁর পায়ে আঘাত লাগে। তিনি আরও বলেন, এর আগের কয়েক দিন ধরেও খলিল তাঁকে মারধর করেছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য: স্থানীয়রা জানান, বেকারত্ব ও হতাশা থেকে খলিল মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মায়ের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে খলিলকে পিলারের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। পরে সবার সিদ্ধান্তে সড়কের পাশে গর্ত করে তাকে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
প্রতিবেশী রেহেনা আক্তার বলেন, খলিল আগেও একাধিকবার তার মাকে মারধর করেছে। তাকে ভয় দেখানো ও ভবিষ্যতে এমন আচরণ থেকে বিরত রাখতেই এই শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।
অভিযুক্তের বক্তব্য: খলিল বলেন, তিনি সকালে মায়ের কাছে টাকা চেয়েছিলেন। টাকা না পাওয়ায় ইট ছুড়ে মারেন। পরে স্থানীয়রা তাকে ধরে এনে মাটিতে পুঁতে রাখেন।
পুলিশের বক্তব্য: শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।
উপসংহার: ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার দৃষ্টান্ত হিসেবে উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের ভূমিকা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।


