বাগেরহাট প্রতিনিধি

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত অভিযান সত্ত্বেও থামছে না বনদস্যুদের তৎপরতা। চাঁদা না দিলে অপহরণের আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে জেলে, মৌয়ালসহ বনজীবীদের।
গত দেড় বছরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর অভিযানে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনে সক্রিয় ৭টি বনদস্যু বাহিনীর ৬১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে বনদস্যুদের কবল থেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩০৮ রাউন্ড ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং ১৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বনদস্যুদের একাধিক আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল সুন্দরবনের বাইনতলা খালে অভিযান চালিয়ে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্য—সোহাগ হাওলাদার ও বাবুল সানাকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক ও ২৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
মোংলা কোস্টগার্ডের যুদ্ধজাহাজ ‘বিজিসিএস স্বাধীন বাংলা’র কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট সাকিব ইমরান জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে করিম-শরিফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, আসাবুর, ছোট জাহাঙ্গীর ও জোনাব বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনী জেলে-মৌয়ালসহ বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে কোস্টগার্ড নিয়মিত টহল জোরদার করেছে। পাশাপাশি নদী-খাল ও বনাঞ্চলে নজরদারি বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্টগার্ডের এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।


