নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ: ১৯৯৮ সালে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে জেলে বন্দি ছিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার দিঘা গ্রামের রাহেলা বেগম (৬৫)। মধ্যবয়সে কারাগারে প্রবেশ করা রাহেলা বেগম আজ বৃদ্ধা, শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল। দীর্ঘ ত্রিশ বছর কারাগারের অন্ধকার কাটানোর পর অবশেষে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
কারাগারে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতি ফিরে এসে কণ্ঠ কাঁপা রাহেলা বেগম বলেন, “জেলে কাঁথা সেলাই করতাম। দিন যেন এক বছর মতো দীর্ঘ লাগত। জীবন, সংসার সবকিছুই মিলানো যেত না। আমি শুধু চাই আমার দিকে সরকার একটু নজর দেয়।”
তার বড় বোন সাহেলা বেগম জানান, “জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমার বাড়িতেই রাহেলার ঠাঁই হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা থাকলে অন্তত খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকতে পারত। সমাজের বিত্তবানদের কাছে মানবিক দৃষ্টিতে এগিয়ে আসার আবেদন জানাই।”
নওগাঁ জেলা জেলসুপার রত্না রায় বলেন, রাহেলা বেগমের কারাদণ্ডের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছিল। তবে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে না পারায় তার মুক্তি আটকে ছিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহায়তায় এবং একজন মানবিক কর্মকর্তার উদ্যোগে তার মুক্তি নিশ্চিত হয় ১২ জানুয়ারি।
কারাগারের লোহার ফটক পেরিয়ে বাইরে আসার পর রাহেলার চোখে ছিল বিস্ময়, মুখে অশ্রু আর বুকভরা দীর্ঘশ্বাস। তার মুক্তি কেবল একজন বন্দির নয়, এটি আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবিক দায়িত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সমাজ ও রাষ্ট্র কতটা পাশে দাঁড়াবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


