নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। এতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লিখিত বক্তব্যে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অকালে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি এ ঘটনাকে একটি কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র ঘৃণা ও নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে একদল উশৃঙ্খল ব্যক্তি অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। এতে কর্মরত সাংবাদিকদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। পাশাপাশি সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক, ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাহসী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত নুরুল কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বিএনপি তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করছে বলে জানান তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে একটি পুরোনো ও চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। তারা বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নস্যাৎ করে দেশে ফ্যাসিবাদের একটি নতুন সংস্করণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের নাকের ডগাতেই এসব তৎপরতা চললেও সরকারের ভূমিকা সন্তোষজনক নয় বলেই জনগণের ধারণা। এর ফলে দেশ-বিদেশে সরকার এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে এবং সরকারকে চাপ প্রয়োগ করছে। এমন প্রেক্ষাপটে সংবাদমাধ্যম ও বিশিষ্ট সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলাকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল বলেন, শান্তিকামী দেশবাসীর পক্ষ থেকে এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারীদের স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করা হচ্ছে। বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশকে ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না। এই অপশক্তিকে রুখে দিতে নৈরাজ্যবিরোধী সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, যে ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জাতীয় নির্বাচন আদায়ের পথ তৈরি হয়েছে, সেই ধারাবাহিকতায় আজ আবারও সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বিএনপি।


