অনলাইন ডেস্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম বলেছেন, জনগণকে অনিরাপদ করে তোলা হলে বাংলাদেশে ভারত ও ভিনদেশের স্বার্থ রক্ষাকারীদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, দেশের ভেতরের রাজনৈতিক সংঘাতকে কেউ কেউ দেশের বাইরে নিয়ে গেছে, তবে প্রয়োজনে মুক্তির লড়াইও দেশের বাইরে বিস্তৃত হবে।
সোমবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
মাহফুজ আলম অভিযোগ করেন, মুজিববাদী আদর্শ ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় শক্তির বিরুদ্ধে অতীতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও সংযম দেখানোর কারণেই সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার সাহস তারা পেয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ক্ষমা করে যদি ভুল করে থাকি, তাহলে আমরা প্রতিজ্ঞা নিচ্ছি—আর ক্ষমা করবো না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। একটা লাশ পড়লে আমরা কিন্তু লাশ নেব। অনেক ধৈর্য দেখানো হয়েছে, অনেক সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে। সুশীলতার নামে আর লাভ নেই।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বিচার প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাহফুজ আলম বলেন, একদিকে বিচার প্রক্রিয়া চললেও অন্যদিকে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে কেউ কেউ ভারতে পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে—এটি মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি দাবি করেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত মুজিববাদী রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্য দিয়েই দেশে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বজায় রাখতে সাংস্কৃতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষকদের একটি অংশকে কব্জা করা হয়েছে, আর কেউ কেউ দেশের ভেতর থেকেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
মাহফুজ আলম বলেন, এই ধারার বিরুদ্ধেই শরিফ ওসমান হাদি অবস্থান নিয়েছিলেন এবং সে কারণেই তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। সমাবেশে বক্তারা এ ঘটনার বিচার এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


