বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

শিশু খাদ্যে ভেজাল: ‘ভালো ব্র্যান্ড’ও অনিরাপদ, ঝুঁকিতে কোমলমতি শিশুর স্বাস্থ্য

পাঠক প্রিয়

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নাকি জবাবদিহিতাহীনতা: রাষ্ট্রের জন্য কোনটি অধিক বিপজ্জনক?

সুফি সাগর সামস্   গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে একটি মৌলিক নীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বলা হয়, বিচার বিভাগকে নির্বাহী...

ফ্যামিলি কার্ড প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে...

নেপাল, আমেরিকান সামোয়া ও সেনেগালে ভিশন পণ্যের রপ্তানি শুরু

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা: দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরএফএল ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড নতুন তিনটি দেশে ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার (এসি)...

ডিএমপিতে দুই ডিসির রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) দুই উপ-পুলিশ কমিশনারকে (ডিসি) রদবদল করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অ্যান্ড স্পেশাল কোর্ট সিকিউরিটি...

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৭ হাজার ৬৯৯ হাজি, সৌদিতে মৃত্যু ৫২ বাংলাদেশির

ঢাকা, ১৮ জুন: পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ১৪২টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৫৭ হাজার ৬৯৯...

অনলাইন ডেস্ক 

নিজের মুদি দোকান থাকা সত্ত্বেও মিরপুরের বাসিন্দা খলিলুর রহমান তার একমাত্র কন্যাশিশুর জন্য উন্নত মানের ডিপার্টমেন্ট স্টোর থেকে খাদ্যদ্রব্য কিনে থাকেন। তার বিশ্বাস, দাম একটু বেশি হলেও নামী ব্র্যান্ডের পণ্য শিশুদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। একই বিশ্বাস নিয়ে পরীবাগের বাসিন্দা সালেহা চৌধুরীও সন্তানের জন্য বেশি দামের ব্র্যান্ড বেছে নেন। কিন্তু সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য—‘ভালো ব্র্যান্ড’ নামেও বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে ভেজাল ও মানহীন শিশুখাদ্য।

বিশেষ করে গুঁড়া দুধ, চকলেটসহ নানা শিশুখাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাচ্ছে। যেসব পণ্য চোখ বন্ধ করে শিশুদের জন্য কিনছেন অভিভাবকরা, সেসব পণ্যেই মিলছে ভেজাল। বাচ্চাদের প্রিয় গুঁড়া দুধ তৈরি হচ্ছে তথাকথিত ‘হয়ে পাউডার’ দিয়ে, যেখানে প্রকৃত দুগ্ধ উপাদানের পরিমাণ অত্যন্ত কম।

গুঁড়া দুধে মাত্র ১৭ শতাংশ দুগ্ধ উপাদান

সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য পরিদর্শকরা ‘গোয়ালিনী ডেইলি ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার’-এর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, এতে দুগ্ধ উপাদান রয়েছে মাত্র ১৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। বাকি প্রায় ৬৭ শতাংশই ভেজাল উপাদান।

দুগ্ধ চর্বি থাকার কথা ছিল ৪২ শতাংশের কাছাকাছি, কিন্তু পাওয়া গেছে মাত্র ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। প্রোটিন থাকার কথা ছিল কমপক্ষে ৩৪ শতাংশ, অথচ মিলেছে মাত্র ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ পণ্যটির বড় অংশই মানহীন ও ক্ষতিকর উপাদানে ভরা।

এ ঘটনায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত গোয়ালিনী গুঁড়া দুধ বাজার থেকে প্রত্যাহার ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। পরে তিনি দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভেজাল পণ্য তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বিদেশি ও নামী ব্র্যান্ডেও ভেজাল

শুধু দেশীয় পণ্য নয়, বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যেও ভেজাল ধরা পড়ছে। তদন্তে আসলাম টি কোম্পানির ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, ডানো, ড্যানিশ, নেসলে ও স্টারশিপসহ একাধিক গুঁড়া দুধ ল্যাব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। এসব পণ্যের আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

এমনকি জনপ্রিয় কিটক্যাট চকলেটেও ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ায় আদালতে মামলা হয়েছে। রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে সংগ্রহ করা কিটক্যাট পরীক্ষায় মানহীন প্রমাণিত হয়।

বিএসটিআই লোগো নিয়েও প্রতারণা

বাজারে থাকা অনেক ভেজাল পণ্যের মোড়কে দেখা যাচ্ছে বিএসটিআই লোগো ও কিউআর কোড। তবে বিএসটিআই কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো নকল। গ্রাহকদের কিউআর কোড স্ক্যান করে পণ্য নিবন্ধিত কি না যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শিশুস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি

বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের উপপরিচালক ডা. মো. আকতার ইমাম বলেন, ভেজাল খাদ্যে শিশুদের কিডনি সমস্যা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা, এমনকি ব্রেন ডেভেলপমেন্টে গুরুতর সমস্যা হতে পারে। এসব ক্ষতি অনেক সময় স্থায়ী হয়ে যায়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, শিশু খাদ্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় নিয়মিত বাজার তদারকি ও ল্যাব পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে জনবল ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে সব ক্ষেত্রেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নিয়ন্ত্রণ দুর্বল, সচেতনতার বিকল্প নেই

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন থাকলেও কার্যকর প্রয়োগ না হওয়ায় ভেজালকারীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এই অনিয়ম বন্ধ হবে না।

এদিকে অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সন্দেহজনক পণ্য দেখলে প্রশাসনকে জানানো এবং বিএসটিআই নিবন্ধন যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার ও কঠোর আইন প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।

সর্বশেষ সংবাদ

জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তায় আইটিএফসির দ্বারস্থ বাংলাদেশ, ২.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণের পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারও আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি)-এর সহায়তার দিকে ঝুঁকছে...

ডিএমপিতে দুই ডিসির রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) দুই উপ-পুলিশ কমিশনারকে (ডিসি) রদবদল করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অ্যান্ড স্পেশাল কোর্ট সিকিউরিটি বিভাগ এবং সিটি-রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট...

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার : জিয়াউদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ দেওয়ার...

কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাবে ইরান, দাবি পেজেশকিয়ানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে কাতারের হেফাজতে থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আসবে বলে দাবি করেছেন দেশটির...

‘ফুটবলের জন্য অযোগ্য’ থেকে বিশ্বকাপের নায়ক, উন্দাভের অবিশ্বাস্য উত্থান

স্পোর্টস ডেস্ক একসময় যাকে ফুটবলের জন্য ‘অযোগ্য’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই ডেনিস উন্দাভ এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত নাম। জীবনের নানা প্রতিকূলতা, আর্থিক সংকট ও...

জনপ্রিয় সংবাদ