নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীতে চলতি বছরের শুরু থেকেই সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আলু চাষিরা সংকটে পড়েছেন। সরকারি মূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না; তবে অতিরিক্ত টাকা দিলে সীমিত পরিমাণে সার পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি মূল্যে প্রতি বস্তা ডিএপি সার ১,০৫০ টাকায় পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে চাষিরা ১,৩০০–১,৪০০ টাকায় এই সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। টিএসপি সার পুরোপুরি অনুপলব্ধ। নভেম্বরের বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত কোনো ডিলারই টিএসপি দিতে পারছে না। তবে বস্তাপ্রতি ৩০০–৪০০ টাকা বেশি দিলে সারের যোগান পাওয়া যাচ্ছে।
পবার দামকুড়া বাজারের ডিলার নজরুল ইসলাম বলেন, “সঙ্কটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী সার দিতে পারছি না। তিন বস্তা চাইলে অনেকেই এক বস্তা কেবল পাচ্ছেন। নতুন বরাদ্দ এলে আবার সরবরাহ শুরু করা হবে।”
তানোরের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি মূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না। অতিরিক্ত টাকা দিলে সীমিত পরিমাণে সার পাওয়া যায়, এতে আলু চাষের খরচ বেড়েছে।”
অন্যদিকে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন এবং দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভিন লাবণী জানান, বরাদ্দ অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে এবং সারসংকট হওয়ার কোনো কথা নয়। তবে কিছু এলাকায় অতিরিক্ত সার প্রয়োগের কারণে সীমিত সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ২২০ জন ডিলারের মধ্যে ৭,৩০৭ টন ইউরিয়া, ৩,১৮৬ টন টিএসপি, ৭,৮৩৯ টন ডিএপি এবং ৫,৬৩৭ টন এমওপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ডিসেম্বরের জন্য ৯,২৭৯ টন ইউরিয়া, ২,৫৫৬ টন টিএসপি, ৭,৯৫১ টন ডিএপি এবং ৪,৪৪৫ টন এমওপি সার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কৃষকরা আশা করছেন, ডিসেম্বরে নতুন বরাদ্দ পাওয়া মাত্র সারের সংকট কমবে এবং আলু চাষ স্বাভাবিকভাবে চালানো যাবে।


