অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর নীতি, বিশেষ করে ইরানসংক্রান্ত অবস্থান ও অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনে সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটছে।
রোববার (২৯ মার্চ) United States Department of Homeland Security জানিয়েছে, Roybal Federal Building ঘিরে ফেলে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী। ঘটনাটি ঘটে Los Angeles-এ। বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালালে অন্তত দুই কর্মকর্তা আহত হন। এ ঘটনায় দুই বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নো কিংস’ ব্যানারে এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ২০০টির বেশি কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। বড় শহর যেমন New York City, Dallas, Philadelphia এবং Washington, D.C.-এ সমাবেশ হলেও, অধিকাংশ কর্মসূচি ছোট শহর ও সম্প্রদায়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। তাদের দাবি, ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য যুদ্ধ, কঠোর ফেডারেল অভিবাসন নীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি—এসব ইস্যুই জনগণের ক্ষোভের মূল কারণ। ‘নো কিংস’ কর্মসূচির নির্দিষ্ট কোনো একক দাবি না থাকলেও, এটি ট্রাম্পবিরোধী বহুমাত্রিক অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে Saint Paul-এ এক সমাবেশে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে নিহত দুই মার্কিন নাগরিকের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। ওই সমাবেশে সংগীতশিল্পী Bruce Springsteen অংশ নিয়ে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন।
সমালোচকদের অভিযোগ, হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নরদের আপত্তি উপেক্ষা করে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশকে সংকট থেকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই তার প্রশাসন কাজ করছে। তাকে ‘রাজা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার সমালোচনার জবাবে তিনি দাবি করেন, “আমি রাজা নই।”
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস এই বিক্ষোভকে ‘বামপন্থি অর্থায়নে পরিচালিত’ বলে উল্লেখ করে বলেছে, এর পেছনে সাধারণ জনগণের প্রকৃত সমর্থন নেই।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, রয়টার্স, বিবিসি, সিবিএস নিউজ।


