মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুর সদর উপজেলায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও একটি ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
রবিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
নিহতরা হলেন—কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকার শাহ আলমের ছেলে রুমান (২৫), কলেজ রোড এলাকার নেছার উদ্দিন মুন্সির ছেলে পান্নু মুন্সি (৫০) এবং কুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের জসিম বেপারীর ছেলে ইজিবাইকচালক সাগর বেপারী। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ‘সার্বিক পরিবহন’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস মাদারীপুর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি রাস্তার পাশের খাদে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকচালকসহ চারজনের মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত এক নারী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রুবেল ফকির জানান, ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের ওই অংশটি অত্যন্ত সরু এবং প্রতিদিন প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। দ্রুতগতির যান চলাচলের কারণে সেখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা শামীম মোল্লা বলেন, মহাসড়কের এই অংশ এখন কার্যত ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানান তিনি।
২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের পুলিশ ইনচার্জ এএসআই আব্দুর রাজ্জাক জানান, মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন।
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতিকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।


