স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে চায় না বাংলাদেশ—এমন অবস্থান আগেই জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর না হলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বর্জন করতে পারে—এমন গুঞ্জনও ক্রিকেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
তবে এসব আলোচনা নাকচ করে দিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে না খেললেও বোর্ডের কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না; বরং ক্ষতির মুখে পড়বেন ক্রিকেটাররাই।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নাজমুল ইসলাম বলেন,
‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোনো ক্ষতি হবে না। ক্ষতি হবে ক্রিকেটারদের। কারণ বিশ্বকাপে খেললে তারা ম্যাচ ফি পায়, পারফরম্যান্স অনুযায়ী বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা পায়। বিশ্বকাপে না খেললে এসব সুবিধা থেকে তারাই বঞ্চিত হবে।’
তিনি আরও বলেন,
‘ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পেছনে আমরা যে কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি কখনো সেই টাকা ফেরত চেয়েছি? কখনোই না।’
নাজমুল ইসলাম জানান, আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলে ক্রিকেটাররা ম্যাচ ফি, ম্যান অব দ্য ম্যাচ কিংবা বিশেষ পারফরম্যান্সের জন্য নির্ধারিত অর্থ পেয়ে থাকেন। এসব অর্থ সরাসরি খেলোয়াড়দের প্রাপ্য। ফলে বিশ্বকাপে অংশ না নিলে এসব আর্থিক সুযোগ হারাবেন তারাই।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে আসছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এর বিনিময়ে ক্রিকেটাররা এখনো কোনো বৈশ্বিক সাফল্য এনে দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে তিনি বলেন,
‘আজ পর্যন্ত আমরা কি কোনো বৈশ্বিক শিরোপা আনতে পেরেছি? কোনো জায়গায় আমরা কতটুকু সফল হয়েছি? তা সত্ত্বেও আমরা কখনো খেলোয়াড়দের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইনি।’
তবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বর্জনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি—এ বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন বিসিবি পরিচালক। তিনি বলেন,
‘আমি কখনো বলিনি আমরা বিশ্বকাপ খেলব না। বোর্ড কখনো বলেনি, দেশ কখনো বলেনি আমরা বিশ্বকাপ খেলব না। আমরা বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে আছি। আমাদের শুধু উপযুক্ত খেলার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে।’
বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিসিবির এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি ও আয়োজকরা বাংলাদেশের দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।


