শাহ অনুরাগ

২৯ হরফের বিস্তারিত এক পোস্ট দিলে পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটতে পারে। তাই পর্ব আকারে পোস্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজকের প্রথম পর্ব থাকল, আলিফ ও বা নিয়ে।
আরবি বর্ণমালার প্রথম বর্ণ ‘আলিফ’ (ا)।
‘আলিফ’ কেবল একটি বর্ণ নয়, একে মনে করা হয় সমস্ত সৃষ্টির মূল ভিত্তি।
মানুষের শরীরের সাথে আলিফের সম্পর্ক:
১. মেরুদণ্ড এবং মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব কারণ সে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আলিফ একটি সোজা রেখার মতো, যা মানুষের মেরুদণ্ডের প্রতীক। সুফি তত্ত্বে বলা হয়, একজন মানুষ যখন পূর্ণ ইমান এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়, সে তখন একটি ‘জীবন্ত আলিফ’-এ পরিণত হয়। এটি মানুষের সত্যনিষ্ঠা এবং একনিষ্ঠতার প্রতীক।
২. স্রষ্টা ও সৃষ্টির সেতুবন্ধন
আলিফ হলো ‘আল্লাহ’ নামের প্রথম অক্ষর। যখন মানুষের অবয়ব আঁকা হয়, তখন আলিফকে রাখা হয় শরীরের কেন্দ্রে বা একদম মাথায়। এর অর্থ হলো—মানুষের বুদ্ধি এবং অস্তিত্ব সরাসরি স্রষ্টার সাথে যুক্ত।
৩. প্রার্থনার ভঙ্গি
মানুষ যখন নামাজে বা ইবাদতে সোজা হয়ে দাঁড়ায় (যাকে ‘কিয়াম’ বলা হয়), তখন তার শরীরের পুরো ভঙ্গিটি একটি দীর্ঘ ‘আলিফ’-এর মতো দেখায়।
৪. শূন্য থেকে পূর্ণতা
একটি বিন্দু যখন নিচের দিকে পড়তে শুরু করে, তখন তা আলিফ তৈরি করে। ঠিক তেমনি, মানুষের জন্মও একটি বিন্দু থেকে, কিন্তু সে যখন পূর্ণতা পায়, তখন সে আলিফের মতো মাথা উঁচু করে পৃথিবীতে বিচরণ করে।
মাথা: একটি বিন্দুর মতো।
দেহ: আলিফের মতো সোজা।
হাত-পা: অন্যান্য হরফের মতো বাঁকানো।
অর্থাৎ, মানুষের পুরো দেহটাই আসলে আলিফের একটি প্রসারিত রূপ। আবার মানব সৃষ্টিতে ব্যবহৃত পুরুষ লিঙ্গকেও আলিফ বলা হয়।
এবার আরবি বর্ণমালার দ্বিতীয় বর্ণ ‘বা’ (ب) মানবদেহের কোথায় আছে সেটি বলি।
১. পায়ের পাতা ও মাটির সাথে সংযোগ
মানুষ যখন সোজা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তার পায়ের পাতা দুটি মাটির সমান্তরালে থাকে। মানুষের দাঁড়িয়ে থাকা অবয়ব আঁকতে ‘বা’ হরফটি পায়ের পাতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. ঠোঁট এবং হাসির প্রকাশ:
মুখমণ্ডলে ‘বা’ হরফটি দিয়ে অনেক সময় নিচের ঠোঁট বা মুখাবয়বের নিচের অংশ ধরা হয়। এর নিচের ‘নুকতা’ বা বিন্দুটি অনেক সময় থুতনির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে।
৩. গর্ভাশয় ও সুরক্ষা:
’বা’ হরফটির গঠন একটি নৌকার মতো, যা কোনো কিছুকে ধারণ করে। আধ্যাত্মিকতায় একে মাতৃজঠর বা গর্ভাশয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এটি নতুন প্রাণের সূচনাস্থল। যেমন একটি বিন্দু (নুকতা) থেকে প্রাণের বিকাশ ঘটে, তেমনি ‘বা’ হরফের নিচের বিন্দুটি সমস্ত সৃষ্টির বীজের প্রতীক।
৪. নুকতা বা বিন্দুর রহস্য: ‘বা’ হরফের নিচে যে একটি বিন্দু থাকে, সুফি দর্শনে তার বিশাল গুরুত্ব রয়েছে। হযরত আলী (রা.)-এর একটি বিখ্যাত উক্তি আছে— “পুরো কোরআন আছে সুরা ফাতিহায়, ফাতিহা আছে বিসমিল্লাহতে, আর বিসমিল্লাহর রহস্য আছে ‘বা’ হরফের নিচের এই বিন্দুটিতে। আমিই ‘বা’ এর নিচে নুকতা” । মানবদেহে এই বিন্দুটিকে মানুষের নাভি বা কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কল্পনা করা হয়। যেখান থেকে মানুষের জন্ম ও পুষ্টি শুরু হয়।
৫. শরীরের ভাঁজ: হাতের ওপর হাত রাখা অবস্থায় বা বসে থাকা অবস্থায় কনুই থেকে কবজির যে সমান্তরাল রেখা তৈরি হয়, তা ‘বা’ হরফের মতো দেখতে।
আত্মতত্ত্ব ভেদ-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত


