
নিজস্ব প্রতিবেদক : তিন দফা দাবির বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ। শুক্রবার বিকেলে শাহবাগে বিক্ষোভ চলাকালে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। এ ঘটনার পর সংগঠনটি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে।
শিক্ষকরা অভিযোগ করছেন, আন্দোলন ভাঙতে সরকার বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। অথচ তিন দফা দাবির বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মূলত, সমান বেতন স্কেল, পদোন্নতি কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং স্থায়ী নিয়োগ কাঠামো প্রণয়ন—এই তিন দাবিই এখন পর্যন্ত ঝুলে আছে।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,
“শিক্ষকদের ওপর হামলা মানে শিক্ষার ওপর হামলা। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—দুই উপদেষ্টা পদে থাকলে কোনো আলোচনায় যাব না।”
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, “বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই সীমিত মাত্রায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনার পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষক সংগঠনগুলো নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি দ্রুত কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে বিদ্যালয় কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের এখন কৌশলগতভাবে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত, নইলে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
তিন দফা বাস্তবায়ন ঘিরে তৈরি অচলাবস্থা এখন এক সংকটময় মোড়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের সমঝোতার উদ্যোগ না এলে, আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল।


