সুফি সাগর সামস

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজকের দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে তাঁর দেশে ফেরা কেবল একটি দলের নেতা ফিরে এসেছে—এটি বাংলাদেশের জনমানসের দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বশূন্যতার অবসান এবং সংকটময় সময়ের জন্য সম্ভাব্য সমাধান।
বাংলাদেশ আজ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে বিপর্যস্ত। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে এতটা অব্যবস্থাপনা, নেতাহীনতা এবং সমাজের সব স্তরে অস্থিরতা আগে দেখা যায়নি। দেশের সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ, অর্থনীতি স্থবির, এবং রাজনীতির নেতৃত্ব পুরোপুরি অভিভাবকশূন্য। রাজনৈতিক দলগুলো যেন নিজেদের স্বার্থের অনুগামী, জাতির স্বার্থের নয়। জনগণ বিভক্ত, আইনচর্চা নির্বাসনে, এবং মব সন্ত্রাস ও হিংসার কাছে সাধারণ মানুষ অসহায়।
এ অবস্থায় দেশের সবচেয়ে বড় নেতৃত্বের সংকট অনুভূত হচ্ছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও জাতির অবিসংবাদিত প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি জাতিকে নির্দেশনা দিতে পারছেন না, আর তার অভাব আজ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনৈক্য এবং নিরাপত্তাহীনতা অনেকটাই এই নেতৃত্বের অভাবের ফল।
এখানেই তারেক রহমানের ভূমিকার গুরুত্ব। তিনি শুধু বিএনপির চালিকাশক্তি নয়; তিনি সেই যোগ্য নেতা, যিনি এককভাবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে, সংকট কাটাতে এবং গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন সম্ভব করতে পারেন। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চরম সংকটে জাতির হাল ধরেছিলেন। বিভক্ত ও দিশাহীন দেশকে তিনি দ্রুত স্থিতিশীল করেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়েছেন। এই ঐতিহ্যিক উত্তরাধিকার তারেকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
বাংলাদেশ আজ আবারও এমন এক সংকটে, যা ’৭৫ বা ’৮২ সালের চেয়েও গভীর। দেশের রাজনৈতিক নীতি এখন ব্যক্তিগত স্বার্থ ও দলীয় স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ। জনগণের মৌলিক অধিকার ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে, সংবিধান পিষ্ট হচ্ছে, এবং সামাজিক আস্থা ধ্বংসের পথে। এই তিক্ত বাস্তবতার মধ্যে তারেক রহমানই একমাত্র সম্ভাব্য “পথপ্রদর্শক”, যিনি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা কাটিয়ে এগিয়ে নিতে সক্ষম।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার ফলে জাতীয় নির্বাচনের অনিশ্চয়তা কমবে। বিএনপির মনোবল বৃদ্ধি পাবে, নির্বাচনী মাঠে জোয়ার তৈরি হবে, এবং জনগণ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আশায় উত্তেজিত হবে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং দায়িত্বশীল সরকারই দেশের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে। এজন্যই তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু রাজনৈতিক ইভেন্ট নয়, এটি গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সুফি সাগর সামস
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি (বিএইচপি)


