বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

পাঠক প্রিয়

ইয়ামাল খেলবেন কতক্ষণ, এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি: স্পেন কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সৌদি আরবের মুখোমুখি হওয়ার আগে স্পেন শিবিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় লামিন ইয়ামালের ফিটনেস। তরুণ...

নেপাল, আমেরিকান সামোয়া ও সেনেগালে ভিশন পণ্যের রপ্তানি শুরু

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা: দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরএফএল ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড নতুন তিনটি দেশে ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার (এসি)...

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমানের দুঃসাহসিক হামলা ইরানি পাইলটদের

অনলাইন ডেস্ক কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের বিমান বাহিনীর দুঃসাহসিক হামলার বিস্তারিত বর্ণনা প্রকাশ করেছেন অভিযানে অংশ নেওয়া...

গুগল-মেটাসহ টেক জায়ান্টদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি পেলেন প্রীতি জিনতা

শোবিজ ডেস্ক মুম্বাই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ব্যক্তিত্বের অধিকার (Personality Rights) সুরক্ষার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলিউড...

সালাহকে থামানোর পরিকল্পনায় নিউজিল্যান্ড, মিশরের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষা

অনলাইন ডেস্ক বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার পর এবার মিশরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। সোমবার...

ইব্রাহিম খলিল বাদল 

চিকিৎসা নয়—এটি যেন এক সুসংগঠিত ব্যবসায়িক কারখানা। রোগীর সেবার বদলে শোষণ, শিক্ষার বদলে সার্টিফিকেট বাণিজ্য এবং মানবিকতার বদলে রাজনৈতিক প্রভাব—এই তিনের ভয়ংকর সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। কাগজে-কলমে এটি একটি আধুনিক হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ; বাস্তবে এটি ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার এক জীবন্ত উদাহরণ।

সেবার প্লেটে তেলাপোকা, পচা ডিমে বানানো খাবার

যে হাসপাতালে মানুষ সুস্থ হতে আসে, সেই হাসপাতালের ক্যান্টিনে খাবারের সঙ্গে নিয়মিত পরিবেশন করা হচ্ছে তেলাপোকা ও মশামাছি। অভিযোগ রয়েছে—কেক ও বিস্কুট তৈরিতে ব্যবহৃত হয় পচা ডিম। রোগীর স্বজনরা বলছেন,
“এই খাবার খেলে রোগী তো দূরের কথা, সুস্থ মানুষও হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাবে।”

অভিযোগ জানানো হলেও কর্তৃপক্ষের নীরবতা প্রমাণ করে—এখানে রোগীর স্বাস্থ্য নয়, লাভই শেষ কথা।

এক বছর ধরে বেতনহীন চিকিৎসা সেবা!

হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বড় একটি অংশ গত এক বছর ধরে নিয়মিত বেতন পাননি। অথচ রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন,
“বেতন চাইলে চাকরি হারানোর হুমকি আসে। আমরা কার্যত জিম্মি।”

বেতন না দিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে—এটাই কি আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার মানদণ্ড?

কাগজে ৭৫০ শয্যা, বাস্তবে ১৪৫—এই প্রতারণার হিসাব দেবে কে?

সরকারি নথিতে হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৭৫০। বাস্তবে সেখানে রয়েছে মাত্র ১৪৫টি বেড। প্রশ্ন উঠছে—এই ভুয়া তথ্যে কারা চোখ বুজে অনুমোদন দিল? নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কী করছিল?

এই তথ্য গোপন রেখে বছরের পর বছর লাইসেন্স ও অনুমোদন বহাল রাখা নিছক অবহেলা নয়—এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ভয়াবহ ব্যর্থতা।

মেডিকেল কলেজ নয়, সার্টিফিকেট কারখানা?

মেডিকেল শিক্ষায় প্রতি পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক বাধ্যতামূলক। কিন্তু আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজে অধিকাংশ বিভাগেই শিক্ষক নেই, ল্যাব নেই, শ্রেণিকক্ষ নেই। নেই পর্যাপ্ত বই, লাইব্রেরিতে বসার জায়গা পর্যন্ত নেই।

তারপরও কীভাবে প্রতিবছর আসন বাড়ানো হয়?
কার অনুমতিতে এই মেডিকেল কলেজ ভবিষ্যতের চিকিৎসক তৈরি করছে?

জমি নেই, দলিল নেই—তবু চলছে কলেজ!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শন ও ডিনস কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—কলেজ ও হাসপাতালের নামে নিজস্ব জমি নেই। ৮৬.৮৫ কাঠা জমির যে দাবি করা হয়, তার নিবন্ধনের সার্টিফাইড কপি জমা দেওয়া হয়নি। আরও ৭০ শতাংশ জমি কেনার নির্দেশ উপেক্ষা করা হয়েছে বছরের পর বছর।

তাহলে প্রশ্ন একটাই—কোন জাদুবলে এতসব অনিয়মের পরও এই কলেজ টিকে আছে?

হাজার কোটি টাকার ঋণ, বিদেশে পাচারের অভিযোগ

২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আনোয়ার হোসেন খান। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেন।

এই অর্থের একাংশ শেয়ারবাজারে কারসাজি, আরেক অংশ বিদেশে পাচার এবং বাকি অংশ দিয়ে দেশে বিপুল সম্পত্তি কেনার অভিযোগ রয়েছে। এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির পরও তদন্ত কোথায়?

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দায়মুক্তির উৎসব

যে সরকারই ক্ষমতায় আসে, তার সঙ্গে ‘সুসম্পর্ক’ গড়ে তোলাই আনোয়ার হোসেন খানের কৌশল—এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ব্যাংকিং খাতের এতগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরব দর্শকের ভূমিকায়।

এই নীরবতা প্রশ্ন তোলে—দেশে কি প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা আইন আছে?

শেষ প্রশ্ন: রোগী, শিক্ষার্থী ও রাষ্ট্রের জবাব কে দেবে?

একটি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ যদি এভাবে প্রতারণা, শোষণ ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়, তবে দায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়—দায় রাষ্ট্রেরও।

এই অনিয়মের তদন্ত হবে কবে?
কারা জবাবদিহির আওতায় আসবে?
আর কতদিন ‘সেবার নামে বাণিজ্য’ চলবে রাজনৈতিক আশ্রয়ে?

সর্বশেষ সংবাদ

জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তায় আইটিএফসির দ্বারস্থ বাংলাদেশ, ২.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণের পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারও আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি)-এর সহায়তার দিকে ঝুঁকছে...

ডিএমপিতে দুই ডিসির রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) দুই উপ-পুলিশ কমিশনারকে (ডিসি) রদবদল করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অ্যান্ড স্পেশাল কোর্ট সিকিউরিটি বিভাগ এবং সিটি-রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট...

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার : জিয়াউদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ দেওয়ার...

কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাবে ইরান, দাবি পেজেশকিয়ানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে কাতারের হেফাজতে থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আসবে বলে দাবি করেছেন দেশটির...

‘ফুটবলের জন্য অযোগ্য’ থেকে বিশ্বকাপের নায়ক, উন্দাভের অবিশ্বাস্য উত্থান

স্পোর্টস ডেস্ক একসময় যাকে ফুটবলের জন্য ‘অযোগ্য’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই ডেনিস উন্দাভ এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত নাম। জীবনের নানা প্রতিকূলতা, আর্থিক সংকট ও...

জনপ্রিয় সংবাদ