নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রতীক বরাদ্দপ্রাপ্ত সব প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বুধবার চট্টগ্রামে প্রতীক বরাদ্দ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ডিসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “নির্বাচনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আজ প্রতীক বরাদ্দের প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। যেসব প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন। এখন থেকে তারা দায়িত্বশীল অঙ্গনের অংশ, তাই তাদের আচরণও হতে হবে দায়িত্বশীল।”
ডিসি জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে চলছেন বলে প্রশাসন সন্তুষ্ট। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রচারণা সংক্রান্ত নির্দেশনায় তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে। এ সময় কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। নির্ধারিত আকারের লিফলেট বিতরণ করা যাবে এবং সেখানে কার ছবি থাকবে, সে বিষয়ে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিংয়ের সময়সীমা ও মাইকের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
শোডাউন নিষিদ্ধ করে তিনি বলেন, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ট্রাক, বাস বা লঞ্চ— কোনো মাধ্যমেই শোডাউন করা যাবে না। নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপের কথা জানান ডিসি। তিনি বলেন, প্রার্থীদের পক্ষে যারা অনলাইনে প্রচারণা চালাবেন, তাদের পরিচয়, ফেসবুক পেজসহ বিস্তারিত তথ্য প্রশাসনকে জানাতে হবে। অনুমোদন ছাড়া প্রচারণা চালালে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনে এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীরা ভোট দিতে পারবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পোস্টাল ব্যালট চট্টগ্রামে পৌঁছাতে শুরু করবে এবং জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হবে। এ সময় প্রতিটি প্রার্থীর একজন করে এজেন্টের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি। বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি গুজব শনাক্ত করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাবে। এ কাজে সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআইয়ের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে।
ডিসি বলেন, “কোনো গুজব ছড়ালে সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হবে এবং যারা গুজব ছড়াবে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।”
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কঠোরতা বজায় রাখা হবে বলেও জানান তিনি।


